বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি রায়পুর উপজেলার ১নং চর আববিল ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে চরপক্ষী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে একটি পুকুর থেকে প্রায় ছয় মাস ধরে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন স্থানীয় প্রভাবশালী আমির হোসেন। এতে সৃষ্টি হওয়া বিকট শব্দ ও ভূমিধসের আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন আশপাশের মানুষ। স্থানীয়দের ধারণা, ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে এ অবৈধ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে যে কোনো সময় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে দু’পক্ষ।
৮নং দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের পানির ঘাট থেকে রাহুল ঘাট পর্যন্ত সাম্প্রতিক অভিযানে কয়েকটি অবৈধ ড্রেজার উচ্ছেদ করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই ফের ৭-৮টি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করেছে কয়েকজন প্রভাবশালী। তাদের মধ্যে রয়েছেন— আনোয়ার হাওলাদার, মফিজ সরকার, হুমায়ূন কবির, সাইফুল ইসলাম, পারভেজ হাওলাদার, ফারুক, পলাশ হাওলাদার, রাছেল খলিফা, শেখ নাঈম ইসলাম বাবু, গফুর মোল্লা, জসিম গাজী ও সুমন বেপারি।
এছাড়া, ২নং দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের মিজান, রাছেল, বিল্লাহ কবিরাজ, নাজিম ও সোহেল সর্দারও একইভাবে অবৈধভাবে ড্রেজার ব্যবহার করে বালু উত্তোলনে জড়িত আছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা ভোরের বাণী-কে বলেন, “অবৈধ ড্রেজার স্থাপনের বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। অচিরেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পরিবেশবিষয়ক একটি আইনি সংস্থার সূত্র জানায়, ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ। আইন অনুযায়ী, শুধুমাত্র সরকার স্বীকৃত ও নির্ধারিত বালু মহাল থেকেই বালু উত্তোলন করা যায়। অন্যদিকে, গ্রামের পুকুর, ডোবা-নালা বা বদ্ধ খাল থেকে বালু উত্তোলনের ফলে আশপাশে তৈরি হওয়া শূন্যস্থান ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ায়। এতে স্থানীয় সড়ক, ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও গাছপালা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ে।
অবৈধ ড্রেজার মেশিন মালিক আমির হোসেন নিজেই স্বীকার করে বলেন, “আমরা জানি, ড্রেজার মেশিন অবৈধ। তারপরও জীবিকার তাগিদে এ কাজ চালাচ্ছি।”
রায়পুরের বিভিন্ন ইউনিয়নে অবৈধ ড্রেজার মেশিনের দৌরাত্ম্যে পরিবেশ ও জনজীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়লেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। স্থানীয়রা বলছেন, এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এ অবৈধ বালু ব্যবসা ভবিষ্যতে ভয়াবহ সংকট ডেকে আনবে।
প্রতিবেদক - মাহমুদ সানি, রায়পুর, লক্ষ্মীপুর।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...