পীরের আস্তানায় হামলা চালান বিক্ষুব্ধরা। ছবি: সংগৃহীত
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় সংলগ্ন আস্তানায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শামিম দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের মৃত জেসের আলী মাস্টারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে কথিত পীর শামিমকে পবিত্র কোরআন শরীফ সম্পর্কে চরম অবমাননাকর ও বিতর্কিত মন্তব্য করতে দেখা যায়। ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা লাঠিসোটা নিয়ে ওই আস্তানায় চড়াও হয়। হামলাকারীরা আস্তানায় ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পর সেখানে অগ্নিসংযোগ করে।
হামলার সময় আস্তানা প্রধান শামিমসহ তার অনুসারী জুবায়ের (৩২), জামিরুন্নেছা (৪০) ও খোকনকে (৪৫) বেধড়ক পিটিয়ে জখম করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শামিমকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্য তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই শামিমের মৃত্যু হয়েছিল। আহত বাকি তিনজনের চিকিৎসা চলমান রয়েছে।
এদিকে, ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত শামিমের বিরুদ্ধে এর আগেও ২০২১ সালে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মামলা হয়েছিল এবং সে সময় তাকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। দৌলতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...