বিজ্ঞাপন
রোববার (২১ জুন) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে আয়োজিত বাজেট পর্যালোচনা বিষয়ক এক সংলাপে এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে সিপিডি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জুনায়েদ সাকি)। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।
এছাড়া বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র্যাপিড) চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ, বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান এবং গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ।
সংলাপে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, করদাতাদের আয় বৃদ্ধির অনুপাতে করের বোঝা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যাদের বার্ষিক করযোগ্য আয় ৬ লাখ থেকে ১৫ লাখ টাকার মধ্যে, নতুন বাজেটে তাদের করের দায় ১২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। বিপরীতে, যাদের বার্ষিক আয় ৩০ লাখ টাকার বেশি, তাদের করের দায় বাড়বে মাত্র ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। এ ধরনের বৈষম্য সামাজিক সমতা ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ১৮ মাসে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন প্রস্তাবিত বাজেটে স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি বলেও মন্তব্য করেন ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, শ্রম, প্রবাসী কল্যাণ, শিল্প ও বাণিজ্য—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ মোট ব্যয়ের অনুপাতে হয় কমেছে, নয়তো স্থবির রয়েছে। একই সঙ্গে পটুয়াখালী ইপিজেড ও জামদানি ভিলেজের মতো কর্মসংস্থানমুখী বড় প্রকল্পগুলো দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট জাতীয় কর্মসংস্থান কর্মসূচি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য কেবল ‘রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা’ হিসেবেই থেকে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও বিদায়ী অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ। খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং বিচক্ষণ মুদ্রানীতি ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে বলেও মন্তব্য করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক।
ফাহমিদা খাতুন বলেন, নতুন সরকারের নতুন বাজেটে অর্থমন্ত্রী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, তা প্রশংসনীয় হলেও সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক অত্যধিক আশাবাদী। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও এসব বরাদ্দের কার্যকর বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো বড় ধরনের উদ্বেগ রয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...