Logo Logo

শহীদ রিয়ান হত্যা মামলা - ট্রাইব্যুনালে আসামি হয়েও টকশোতে সরব সোমা ইসলাম


Splash Image

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার বৈধতা উৎপাদন এবং উসকানি দেওয়ার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলার অন্যতম আসামি সাংবাদিক সোমা ইসলাম এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, আইনের আওতায় না আসায় তিনি সাম্প্রতিক সময়ে আবারও বিভিন্ন টেলিভিশন টকশোতে উপস্থিত হচ্ছেন। সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে তাচ্ছিল্য করে বিগত স্বৈরাচারী সরকারের পক্ষে সাফাই গাওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি, যা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


গত ৫ আগস্ট স্বৈরাচারী সরকারের পতনের খবরে বিকেলে শ্যামলীর খিলজি রোড হয়ে রিং রোডে বিজয় মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন ১৭ বছর বয়সী কিশোর নাসিব হাসান রিয়ান। এর আগে ১৮ জুলাই তার বন্ধু ফারহান ফাইয়াজ শহীদ হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রিং রোডে ওতপেতে থাকা পুলিশের একটি দলের সামনে সাহসিকতার সঙ্গে দুই হাত প্রসারিত করে রিয়ান বলেছিলেন, ‘গুলি করবি? কর’। মুহূর্তেই ঘাতক পুলিশ তার ওপর আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে গুলিবর্ষণ করে। বুকে, কাঁধে ও গলায় একে একে তিনটি বুলেট বিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এই অকুতোভয় কিশোর। প্রথম বুলেটটি তার বুকে লেগে পিঠ দিয়ে, দ্বিতীয়টি কানের নিচ দিয়ে ঢুকে গলা ভেদ করে এবং তৃতীয়টি কাঁধের মাংস ছিঁড়ে বেরিয়ে যায়।

এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন নিহত রিয়ানের বাবা আব্দুর রাজ্জাক।

শহীদ রিয়ানের বাবার দায়ের করা এই মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর ৩(২) ও ৪(১)/৪(২) ধারা অনুযায়ী, মোট ৫৩ জনের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে ২৯ জনই সাংবাদিক। সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, নঈম নিজাম, ফরিদা ইয়াসমিন, মুন্নী সাহা ও সোমা ইসলামসহ এই আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০ থেকে ৪৯ নম্বর আসামিরা পতিত সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যাকে বৈধতা দিতে পরিকল্পিতভাবে প্ররোচনা ও উসকানি দিয়েছেন। তারা ছাত্র-জনতার আন্দোলনের দাবি ও উদ্দেশ্য নিয়ে মিথ্যা খবর প্রচার, হতাহতের সঠিক তথ্য গোপন এবং টকশো ও কলামের মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করেছেন। এমনকি আন্দোলন চলাকালে তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ‘আমরা আপনার সাথে আছি’ বলে সরাসরি গণহত্যায় ইন্ধন জোগান বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো গুরুতর অভিযোগে মামলা হওয়ার পরও সাংবাদিক সোমা ইসলামকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর তিনি আবারও প্রকাশ্যে এসে বিভিন্ন টকশোতে অংশ নিচ্ছেন এবং ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে ব্যঙ্গ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সচেতন মহল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, অনতিবিলম্বে গণহত্যার বৈধতা উৎপাদনকারী ও স্বৈরাচারের দোসর এই আসামিকে আইনের আওতায় আনা না হলে তাকে তীব্র তোপের মুখে পড়তে হবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...