Logo Logo

স্থবির ব্যবসা-বাণিজ্য

তাহিরপুরে টোল বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে অনির্দিষ্টকালের নৌ ধর্মঘট


Splash Image

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় নদীপথে টোল বৃদ্ধি, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে অনির্দিষ্টকালের নৌ ধর্মঘট শুরু হয়েছে। ধর্মঘটের কারণে যাদুকাটা ও পাটলাই নদীপথে কয়লা, চুনাপাথর ও বালুবাহী তিন শতাধিক নৌযানের চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, পাথর শিল্প ও পরিবহন কার্যক্রমে বড় ধরনের স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


বুধবার (১ জুলাই) থেকে যাদুকাটা ও পাটলাই নদীতে এই ধর্মঘট পালন করছেন নৌ শ্রমিক, মাঝি-মাল্লা, নৌকা মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর ইজারাদারের লোকজন সরকারি নির্ধারিত হারের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন। টোল দিতে অস্বীকৃতি জানালে শ্রমিকদের মারধর, নৌকা আটকে রাখা এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

শ্রমিকদের দাবি, উপজেলার পাটলাই নদীর কামালপুর ও যাদুকাটা নদীর ফাজিলপুর এলাকায় ইজারাদারের নিয়োজিত লোকজন দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক অতিরিক্ত টোল আদায় করে আসছেন। নির্ধারিত টোলের পাশাপাশি ‘কোটগারি’সহ বিভিন্ন অজুহাতে প্রতিটি নৌকা থেকে কয়েক হাজার টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) যাদুকাটা নদী নৌকা মালিক সমিতি ও স্টোন ক্রাশার মালিক সমিতির নেতারা সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে পৃথক স্মারকলিপি জমা দিয়ে বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকায় পাটলাই নদীর ঘাটের ইজারা নিয়েছেন দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাছির মিয়া। শ্রমিকদের দাবি, গত জুন মাস পর্যন্ত প্রতি টনে ৩৪ টাকা হারে টোল আদায় করা হলেও জুলাই মাসের শুরু থেকে প্রতি টনে ৭০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। পাশাপাশি নদীপথের বিভিন্ন পয়েন্টে ‘কোটগারি’র নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।

তাহিরপুর উপজেলার সিকশা গ্রামের নৌকার মাঝি তৈবুর রহমান বলেন, “গত মাসেও আমরা প্রতি টনে ৩৪ টাকা টোল দিয়েছি। এখন হঠাৎ করে ৭০ টাকা দাবি করা হচ্ছে। টাকা না দেওয়ায় আমাদের নৌকা আটকে রাখা হয়েছে। এতে আমরা চরম দুর্ভোগে পড়েছি।”

জামালগঞ্জ উপজেলার মাঝি আবদুল সালাম বলেন, “নদীপথে বিভিন্ন স্থানে চাঁদা দিতে দিতে আমরা দিশেহারা। মালিকের কাছে আমাদেরই জবাবদিহি করতে হয়। আমরা এই হয়রানি ও চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি চাই।”

যাদুকাটা স্টোন ক্রাশার মালিক সমিতির সভাপতি কামাল হোসেন বলেন, “মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে টোল ৩৪ টাকা থেকে ৭০ টাকা করা হয়েছে। একটি নৌকা গন্তব্যে পৌঁছাতে বিভিন্ন স্থানে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে এই ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।”

তবে শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইজারাদার নাছির মিয়া। তিনি বলেন, “আমি সরকারের নির্ধারিত হারেই টোল আদায় করছি। বিআইডব্লিউটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী ১ জুলাই থেকে প্রতি টনে ৭০ টাকা টোল কার্যকর হয়েছে। অতিরিক্ত কোনো অর্থ নেওয়া হচ্ছে না।”

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর সিলেট আঞ্চলিক দপ্তরের উপপরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, “১ জুলাই থেকে সারা দেশে বিআইডব্লিউটিএর নতুন টোল হার কার্যকর হয়েছে। সেই অনুযায়ী প্রতি টনে ৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই সরকারি নির্ধারিত হারের বাইরে অতিরিক্ত টোল আদায়ের কোনো সুযোগ নেই।”

এদিকে ধর্মঘট অব্যাহত থাকায় যাদুকাটা ও পাটলাই নদীপথে পণ্য পরিবহন কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং নদীপথে হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অন্যদিকে ইজারাদার ও বিআইডব্লিউটিএ দাবি করছে, নতুন সরকারি টোল হার অনুযায়ীই টোল আদায় করা হচ্ছে। ফলে টোল বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে স্থানীয় অর্থনীতি এবং পাথর-চুনাপাথর ব্যবসায় আরও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

শ্রমিক ও নৌযান মালিকরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের ঘোষিত নৌ ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...