বিজ্ঞাপন
গত বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত গণঅভ্যুত্থান দিবসের আলোচনা ও স্মরণসভায় এই বৈষম্যের চিত্র প্রকাশ পায়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সাধারণ নাগরিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকলেও রাজপথ কাঁপানো ওই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারীদের কাউকেই দেখা যায়নি। চব্বিশের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সামনের সারিতে থাকা বিপ্লবীরা জানিয়েছেন, এত বড় একটি জাতীয় দিবসে উপজেলা প্রশাসন থেকে তাঁদের কাছে ন্যূনতম কোনো সৌজন্যমূলক নিমন্ত্রণপত্র বা মেসেজ পাঠানো হয়নি।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় প্রতিনিধি ও রাজপথের সক্রিয় যোদ্ধা হযরত আলী এবং ওবায়দুল হক আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, "সারা বাংলাদেশে যখন ছাত্র-জনতা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিল, তখন আমরা তেঁতুলিয়ার সাধারণ শিক্ষার্থীদের একত্রিত করে জীবন বাজি রেখে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলাম। জুলাই বিপ্লবে তেঁতুলিয়াবাসীর অবদানের কথা সবাই জানে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে আজ গণঅভ্যুত্থান দিবসের কর্মসূচিতে সেই আন্দোলনকারীদেরই প্রশাসনিকভাবে ‘মাইনাস’ বা বাদ দেওয়া হয়েছে।"
এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও-অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফাহমিদা সুলতানা সাংবাদিকদের জানান, তিনি অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকায় ব্যক্তিগতভাবে আন্দোলনের সবাইকে চেনেন না। তবে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিপ্লবীদের অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা অফিসকে দেওয়া ছিল। তিনি আরও যোগ করেন, "কাজে কোনো মাইনাস করার মানসিকতা ছিল না, যারা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা আন্দোলনকারীদের কাউকে সাথে করে নিয়ে আসলেই পারতেন।" অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে আগামীতে এ ধরনের জাতীয় কর্মসূচিতে পারস্পরিক সমন্বয় আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন নয়, এটি ছিল তরুণ সমাজের বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার এক ঐতিহাসিক বিপ্লব। ফ্যাসিবাদ বিরোধী সেই আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে প্রতি বছর রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যদি প্রশাসনিক উদাসীনতায় মূল আন্দোলনের সংগঠকদেরই কোণঠাসা বা উপেক্ষিত করা হয়, তবে তা অভ্যুত্থানের মূল চেতনাকেই ক্ষুণ্ন করে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...