বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তাবলিগ জামাতের সদস্য হিসেবে কয়েক দিন ধরে স্টেডিয়াম গেট এলাকার ওই মাদ্রাসা ও এতিমখানা মসজিদে অবস্থান করছিলেন ইব্রাহিম। শুক্রবার রাতে হঠাৎ এলাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি কিছুটা স্বস্তি পেতে ভবনের ছাদে ওঠেন। দুর্ভাগ্যবশত, ছাদের একদম পাশ ঘেঁষে চলে গেছে বিদ্যুতের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মূল লাইন। অন্ধকার ও অসতর্কতাবশত ওই তারের সংস্পর্শে আসার পরপরই বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হলে তিনি গুরুতর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে মুহূর্তের মধ্যে ছাদেই লুটিয়ে পড়েন তিনি।
ঘটনার আকস্মিকতায় সঙ্গে থাকা তাবলিগ জামাতের অন্যান্য সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মরদেহ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়। এ বিষয়ে মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনাটি পুলিশকে অবগত করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কাজ চলছে।
উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকায় ভবন কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোল ঘেঁষে বিপজ্জনকভাবে ঝুলতে থাকা বিদ্যুৎ সংযোগ প্রায়শই এমন মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষ করে লোডশেডিংয়ের সময় বিদ্যুৎ কখন আসবে তা অনিশ্চিত থাকায় অসতর্ক মুহূর্তে স্পর্শ লেগে সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, জনবসতিপূর্ণ এলাকা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পাশ দিয়ে যাওয়া এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইন দ্রুত স্থানান্তর না করলে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেতেই থাকবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...