বিজ্ঞাপন
গত ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। একই দিন জেলা পর্যায়ে নীলফামারীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এরপর থেকেই এডিস মশার প্রজননস্থল বিনষ্ট ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত তিন মাসব্যাপী চলবে এই বিশেষ অভিযান। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি নাগরিকদের নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। প্রতিদিন ৩টি করে মোট ৯টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও বাজারে ফগার মেশিনের সাহায্যে মশক নিধন ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে।
পৌরসভার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শক জানান, শহরকে মশকমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রতিদিন জামাদার, ড্রাইভার, সুইপার ও লেবারসহ প্রায় দুইশত কর্মী মাঠ পর্যায়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন।
এ বিষয়ে নীলফামারী পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ তারেক রেজা জানান, জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতেই প্রধানত এডিস মশার বংশবৃদ্ধি ঘটে। তাই বাসাবাড়ির ছাদ, ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার কিংবা পানি জমার সম্ভাবনা থাকা যেকোনো পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার রাখার ওপর সর্বাধিক অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সবার সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই কর্মসূচি সফল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শহরের শাপলা মোড় এলাকার বাসিন্দা ও বিশমুড়ী চাঁদের হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল প্রশাসনের প্রচেষ্টাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা। বাসাবাড়ি কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোথাও যেন তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষার্থীদের সচেতন করে তুলতে শিক্ষকরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
নীলফামারী সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী আশিক ইসলাম জানান, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে তরুণ ও শিক্ষার্থী সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রত্যেকে নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখলে মশার বংশবৃদ্ধি রোধ করা সহজ হবে।
নীলফামারী পৌরসভার প্রশাসক সাইদুল ইসলাম বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর থেকেই মাঠ পর্যায়ে কাজ পুরোদমে চলছে। পৌরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও একটি নিরাপদ শহর গড়ে তুলতে নীলফামারী পৌর প্রশাসন বদ্ধপরিকর।”
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...