বিজ্ঞাপন
এর আগে শনিবার (১৫ আগস্ট) দিবাগত রাতে নিহতের পুত্রবধূ মোছা. সাদিয়া আক্তার (২২) বাদী হয়ে নকলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সাদিয়া উপজেলার কায়দা বেগুন পট্টি এলাকার মো. আ. সোবাহানের স্ত্রী।
মামলার এজাহারভুক্ত গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন— কায়দা বেগুন পট্টি এলাকার মো. হাসু মিয়া (৪৫), তার ছেলে মো. কামরুল হাসান (১৯) এবং হাসু মিয়ার স্ত্রী মোছা. কুলসুম (৪০)।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে বাদী সাদিয়ার ৪ বছর বয়সী শিশুপুত্র সিফাতের সঙ্গে ১ নম্বর আসামি হাসু মিয়ার ৬ বছর বয়সী ছেলে আবিরের খেলাধুলার সময় হাতাহাতি ও মারামারি হয়। বাচ্চাদের চিৎকার শুনে সাদিয়ার শাশুড়ি মোছা. হুজুরা খাতুন (৫৮) তাদের থামাতে আসামিদের বসতবাড়ির উঠানে যান।
এ সময় পূর্ববিরোধের জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে ১ নম্বর আসামি হাসু মিয়া একটি শক্ত কাঠের শারক (বাটাম) দিয়ে হুজুরা খাতুনের মাথায় সজোরে আঘাত করেন। এতে তিনি সঙ্গে সঙ্গে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
স্থানীয় সূত্র ও এজাহারে আরও বলা হয়, হুজুরা খাতুনকে বাঁচাতে পরিবারের অন্য সদস্যরা এগিয়ে এলে আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠি, কাঠের শারকসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। এতে পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য রক্তাক্ত জখম হন।
মারাত্মক আহত হুজুরা খাতুনকে উদ্ধার করে প্রথমে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসকরা তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। পরবর্তীতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক হুজুরা খাতুনকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই নিহতের পরিবার নকলা থানায় উপস্থিত হয়ে বিস্তারিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নকলা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল এলাকায় বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান চালায়। অভিযোগ দায়েরের মাত্র ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রধান আসামিসহ এজাহারভুক্ত তিন আসামিকেই গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের দ্রুততম সময়ে সব আসামিকে আইনের আওতায় নিয়ে আসায় নকলা থানা পুলিশের দায়িত্বশীল ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ জানান, “অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশি তৎপরতা জোরদার করে ৬ ঘণ্টার মধ্যে এজাহারভুক্ত সকল আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও রহস্য উদঘাটন করা হবে।”
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...