Logo Logo

১০৪ কোটি টাকার শেখ কামাল স্টেডিয়াম যেনো দুর্নীতির এক জ্বলন্ত উদাহরণ


Splash Image

গোপালগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্রে লঞ্চঘাটের পাশে ১০ একর জমিতে স্বগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে কথিত আন্তর্জাতিক মানের গোপালগঞ্জ শেখ কামাল ক্রিকেট স্টেডিয়াম। তবে বাইরে থেকে জাঁকজমক মনে হলেও ভেতরে বর্ণিল এই অবকাঠামো এখন চরম অবহেলা, অনিয়ম ও অভিভাবকহীনতার এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত।


বিজ্ঞাপন


ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই গোপালগঞ্জে এই স্টেডিয়াম নির্মাণের প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে এর কাজ স্থবির হয়ে পড়ে। ২০০৯ সালে পুনরায় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রকল্পটিতে নতুন গতি আসে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) পরিচালনায় প্রায় ১০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হয় শেখ কামাল স্টেডিয়াম। অবশেষে ২০১৩ সালের ১২ নভেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্টেডিয়ামটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

একটি আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জন্য যেসব সুযোগ-সুবিধা থাকা প্রয়োজন, তার প্রায় সবই এখানে বিদ্যমান। তবে দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, বর্ণাঢ্য উদ্বোধনের ১৩ বছর পার হয়ে গেলেও এই স্টেডিয়ামে আজ পর্যন্ত জাতীয় পর্যায়ের কোনো ম্যাচ আয়োজন করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিনের অবহেলায় সুবিশাল মাঠজুড়ে হাঁটুসমান পানি ও আগাছায় ছেয়ে গেছে, যা ক্রিকেট খেলার একদম অনুপযোগী। সাইটস্ক্রিনের অবস্থা নাজুক, মাঠ পরিচর্যার রোলার চালক নেই এবং দর্শকদের গ্যালারির চেয়ারের রং চটে গেছে। এছাড়া ভবনের ৮৬টি দামি এসি বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের সিংহভাগই বছরের পর বছর অকেজো পড়ে আছে। এবং স্টেডিয়াম এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে মাদকসেবীদের এবং বিক্রয়কারীদের আতুড়ঘর হিসেবে।

প্রকল্প পর্যালোচনায় উঠে এসেছে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র। ১০৪ কোটি টাকার বিপুল বাজেট থাকলেও কথিত আছে স্টেডিয়ামটি নির্মাণ হয়েছে নিম্নমানের সরঞ্জাম দিয়ে সেক্ষেত্রে বিজ্ঞজনের ধারনা ৫০ কোটি টাকাও ব্যয় হয়নি এখানে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, ক্রিকেটারদের অনুশীলনের জন্য নির্ধারিত আউটার স্টেডিয়ামটি স্থানীয় প্রভাবশালীদের যোগসাজশে এবং কর্তৃপক্ষের অবহেলায় অবৈধ মার্কেট এবং দোকানপাট তৈরি করে দখল করে নেওয়া হয়েছে, যা উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়েছে জেলা ক্রীড়া সংস্থা।

ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরের উন্নত আবাসনের বাস্তবতা বিচার না করেই বিপুল অর্থ ব্যয়ে স্টেডিয়ামটি নির্মাণ হয়েছে মূলত টাকা লুটপাটের হাতিয়ার হিসেবে। আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের বাস্তবিক সম্ভাব্যতা বিচার না করে শুধু অবকাঠামো দেখিয়ে সরকারি অর্থ খরচের এই প্রক্রিয়াকে ক্রীড়া বোদ্ধারা "অপচয়মূলক দুর্নীতি" হিসেবেই দেখছেন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...