বিজ্ঞাপন
গতকাল শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার চৌমুহনী-ফেনী রোডে অবস্থিত আমানিয়া হোটেলের ম্যানেজারের অফিস কক্ষে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত ইমাম উদ্দিন নোয়াখালী সদর উপজেলার নওয়াজপুর ইউনিয়নের হাসানপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে আমানিয়া হোটেলে ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ ঘটনায় বেগমগঞ্জ থানায় দায়ের করা এজাহারে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারনামীয় আসামিরা হলেন— হাসান মাহমুদ শুভ (৩৫), বাবু (৩৫), এনামুল হক লালন (৩২) ও মহদী হাসান (৩০)। অভিযুক্তরা সবাই চৌমুহনী পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা এবং মাদকাসক্ত বলে জানা গেছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, হোটেলের অন্যতম পার্টনার হাসান মাহমুদ শুভ বিভিন্ন সময়ে হিসাবের বাইরে টাকা দাবি করতেন ও নিয়ে যেতেন। কিন্তু অন্য পার্টনাররা অনিয়মিতভাবে টাকা দিতে নিষেধ করায় শুভ ম্যানেজার ইমাম উদ্দিনের ওপর ক্ষিপ্ত হন।
ভুক্তভোগী ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে নামীয় চার আসামিসহ অজ্ঞাত ৫-৬ জন সশস্ত্র হামলাকারী রামদা, ছেনি, চাপাতি ও লোহার রড নিয়ে হোটেলের অফিস কক্ষে প্রবেশ করে। তারা অতর্কিত হামলা চালিয়ে ইমাম উদ্দিনকে এলোপাতাড়ি মারধর ও চাপাতি দিয়ে মাথায় কোপ দেয়। এতে তাঁর মাথার ডান পাশে গুরুতর জখম হয় এবং পাঁচটি সেলাই দিতে হয়। এছাড়া রডের আঘাতে মাথার বাম পাশ গুরুতর জখম করা হয় এবং ঘুষির আঘাতে নাক ফেটে রক্তক্ষরণ হয়। হামলাকারীদের একজন গলা চেপে ধরে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় বৃদ্ধ আব্দুল মালেক নামে এক ব্যক্তি তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাঁকেও মারধর করে আহত করা হয়। অভিযুক্ত শুভ পূর্বেও একাধিকবার হোটেলে ভাঙচুর চালিয়েছিলেন এবং ঘটনাটি নিয়ে মামলা করা হলে প্রাণনাশের হুমকিসহ লাশ গুম করার হুমকি দেন। পরে স্থানীয়রা আহত ইমাম উদ্দিনকে উদ্ধার করে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেন।
অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে হাসান মাহমুদ শুভর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি, যার ফলে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান জানান, ঘটনার বিষয়ে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...