বিজ্ঞাপন
গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে সমিতির একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।
সদস্যরা জানান, গরু ও ছাগল পালনের মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার কথা বলে হযরত আলী স্থানীয় ৮০ জনকে নিয়ে সমিতিটি গঠন করেন। পরে সুফিয়া বেগমকে কোষাধ্যক্ষ এবং বিউটি বেগমকে সমন্বয়ের দায়িত্ব দিয়ে কমিটি করা হয়। ছাগল পালনের সুবিধাভোগী সদস্যরা মাসে ১০০ টাকা এবং গরু পালনের সুবিধাভোগীরা ২০০ টাকা করে সঞ্চয় করতেন। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষের মাধ্যমে এসব টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হতো।
সদস্যদের অভিযোগ, পাঁচ বছরে জমা হওয়া ১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষ ব্যাংক থেকে উত্তোলন করেন। পরে সদস্যদের সম্মতিতে সভাপতিকে কিস্তি হিসেবে ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। প্রায় দুই মাস পর সভাপতি লাভসহ ওই কিস্তির টাকা কোষাধ্যক্ষের কাছে ফেরত জমা দেন। এরপর সদস্যরা সমিতির মোট সঞ্চয়ের হিসাব চাইলে কোষাধ্যক্ষ ও তাঁর স্বামী নানা ধরনের টালবাহানা ও ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন বলে অভিযোগ সদস্যদের।
পরে বিষয়টি জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানানো হয়। সদস্যদের উপস্থিতিতে হযরত আলী ও তাঁর স্ত্রী সব টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। তবে অভিযোগ, মাসের পর মাস এমনকি এক বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁরা টাকা ফেরত দেননি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সদস্যরা নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতিফের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার পলাশবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদে সদস্যদের, ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিষ্পত্তির কথা ছিল। সেখানে সব টাকা ফেরত দেওয়ার কথাও ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে হযরত আলী ও তাঁর স্ত্রী উপস্থিত না হওয়ায় সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
অভিযোগের বিষয়ে হযরত আলী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বললেও তাঁর বক্তব্যে নানা টালবাহানার অভিযোগ পাওয়া যায়। তাঁর স্ত্রী ও সমিতির কোষাধ্যক্ষ সুফিয়া বেগম বলেন, সমিতির টাকা তাঁর স্বামীর চিকিৎসা ও সংসারের খরচে ব্যয় হয়েছে। তবে তিনি টাকা ফেরত দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
সমিতির সদস্য নুরন্নবী বলেন, “আমাদের সমিতির অধিকাংশ সদস্য অসহায়, দিনমজুর ও প্রতিবন্ধী। তাঁদের কষ্ট করে জমানো টাকা আটকে আছে।”
আরেক সদস্য লাকী বেগমের অভিযোগ, টাকা ফেরত চাওয়ায় হযরত আলী তাঁদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখান। তিনি নিজেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন বলেও দাবি করেন লাকী বেগম।
সমিতির সভাপতি বলেন, “আমাদের টাকা ফেরত না দিলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।”
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রাণিসম্পদ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সদস্যরা দ্রুত সঞ্চয়ের পুরো টাকা ফেরত এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...