বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবাইতদের মধ্যে সম্মানী বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন ও অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটিয়ে এখন দেশ পুনর্গঠনের পালা। এ ক্ষেত্রে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্র ও সমাজে বিভিন্ন ধর্ম, মত ও বিশ্বাসের মানুষের সম্মিলনই বৈচিত্র্যময় সমাজের সৌন্দর্য। আজকের অনুষ্ঠানে যারা ‘সংখ্যালঘু’ বা ‘সংখ্যাগুরু’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন, ইউরোপ কিংবা আমেরিকা সফরে গেলে আমরা সবাই সেখানে কথিত সংখ্যালঘু হয়ে যাই। তাই বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজে সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু পরিচয়কে মুখ্য করে দেখার সুযোগ নেই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু নয়, আসুন সবাই নিজেদের বাংলাদেশি মনে করি।’ রাষ্ট্র ও সমাজে দল, মত, ধর্ম, বর্ণ কিংবা অন্য কোনো পরিচয় যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ ও বৈষম্য সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। দেশের সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সার্বভৌমত্ব সংহত রেখে সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তারেক রহমান। সেই লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং সব ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানী ভাতাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে রাষ্ট্র তার সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। অন্যদিকে নাগরিকরাও রাষ্ট্রের প্রতি তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন। রাষ্ট্র, সরকার ও নাগরিকদের পারস্পরিক দায়িত্ব, আস্থা ও সংলাপের মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত কল্যাণরাষ্ট্র বা ‘কল্যাণ বাংলাদেশ’ গড়ে উঠবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের কেউ যাতে পিছিয়ে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এ জন্য প্রয়োজন সবার সম্মিলিত উদ্যোগ ও সহযোগিতা। এই দেশ সবার—আপনার, আমার এবং আমাদের সবার।
নাগরিক হিসেবে দেশের প্রতিটি মানুষের অধিকার সমান উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার। বর্তমান সরকার ও বিএনপি বিশ্বাস করে—‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ এবং ‘ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার’।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...