Logo Logo

রক্তদাতাদের অবমূল্যায়ন ও ক্রমবর্ধমান সংকট: মানবিক বন্ধন সুদৃঢ় করার সময় এখনই


Splash Image

চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভাবনীয় অগ্রগতির এই যুগেও মানুষের বিকল্প কেবলই মানুষ। কৃত্রিম কোনো উপায়ে ল্যাবরেটরিতে এখনো রক্ত তৈরি করা সম্ভব হয়নি। ফলে মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে রক্তের কোনো বিকল্প নেই। অথচ আমাদের দেশে প্রতিদিন হাসপাতালের বেডে রোগীর সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়লেও, সেই অনুপাতে রক্তদাতার সংখ্যা বাড়ছে না। উল্টো এক ধরণের প্রচ্ছন্ন 'রক্তদাতা সংকট' চারপাশকে গ্রাস করছে। কিন্তু কেন এই সংকট? একটু গভীরে গেলেই দেখা যাবে, এর মূলে রয়েছে রক্তদাতাদের প্রতি চরম অবমূল্যায়ন এবং এক ধরণের সামাজিক উদাসীনতা।


বিজ্ঞাপন


কেন তৈরি হচ্ছে রক্তদাতার সংকট?একজন রক্তদাতা সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে, কোনো প্রতিদানের আশা না করে নিজের শরীরের মূল্যবান অংশ বিলিয়ে দেন কেবল একটি অপরিচিত প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে। কিন্তু রক্তদানের পর এই মানুষগুলো সামাজিকভাবে কতটা মূল্যায়িত হন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সময় এসেছে। অনেক সময় দেখা যায়, রক্ত নেওয়ার পর রোগীর স্বজনরা রক্তদাতার ন্যূনতম খোঁজখবরটুকুও নেন না। ধন্যবাদ বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সৌজন্যতাও হারিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া বিভিন্ন ব্লাড ব্যাংক বা হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা, রক্তদাতাদের দীর্ঘ সময় বসিয়ে রাখা, কিংবা রক্তদানের পর তাদের প্রতি যথাযথ যত্নশীল আচরণের অভাব নতুন ও নিয়মিত রক্তদাতাদের দারুণভাবে নিরুৎসাহিত করছে। মানুষ যখন দেখে তার এই মহৎ ত্যাগের কোনো সামাজিক স্বীকৃতি নেই, কিংবা অবহেলাই এর শেষ পরিণতি, তখন এক ধরণের প্রচ্ছন্ন অনিহা তৈরি হয়। এই অবমূল্যায়নই আজকের রক্তদাতা সংকটের অন্যতম প্রধান অনুঘটক।রক্তদানে নাহি ভয়, নতুন সম্পর্ক সৃষ্টিঅনেকের মনে এখনো রক্তদান নিয়ে নানা অমূলক ভয় ও ভ্রান্ত ধারণা কাজ করে। রক্ত দিলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়া বা রোগে আক্রান্ত হওয়ার যে ভয়, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বরং রক্তদান শরীরকে আরও সুস্থ ও সতেজ রাখে।

রক্তদানের সবচেয়ে সুন্দর দিকটি হলো—এটি কোনো জাত, ধর্ম বা সীমানা মানে না। আপনার শিরা থেকে প্রবাহিত রক্ত যখন অন্য একজনের শরীরে গিয়ে তার জীবন ফিরিয়ে দেয়, তখন সেখানে এক অদ্ভুত আত্মিক টান তৈরি হয়।

রক্তদানের মাধ্যমে দুটি সম্পূর্ণ অপরিচিত পরিবারের মধ্যে গড়ে ওঠে এক চিরন্তন ও মধুর মানবিক সম্পর্ক। যে রক্তের বন্ধন কোনোদিন ছিন্ন হওয়ার নয়। এটি কেবল জীবন বাঁচানো নয়, বরং সমাজে সম্প্রীতি ও ভালোবাসার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।

আমাদের করণীয়: নিজে রক্ত দিন, অন্যকে উৎসাহিত করুনএই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। রক্তদাতাদের সমাজের 'নীরব নায়ক' হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। ব্লাড ব্যাংক ও হাসপাতালগুলোকে রক্তদাতাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে তাদের জন্য বিশেষ সম্মাননা বা কার্ডের ব্যবস্থা করা যেতে পারে, যা তাদের অনু্প্রেরণা জোগাবে।

একজনের সচেতনতাই পারে আরও দশজনকে অনুপ্রাণিত করতে। তাই আসুন, মনের সব ভয়ভীতি দূর করে আমরা রক্তদানে এগিয়ে আসি। নিজে নিয়মিত রক্ত দান করি এবং পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের এই মহৎ কাজে উৎসাহিত করি। মনে রাখবেন, আপনার দেওয়া কয়েক ফোঁটা রক্ত হয়তো কোনো মায়ের কোল খালি হওয়া থেকে বাঁচাবে, কিংবা কোনো শিশুর মুখে ফুটিয়ে তুলবে অমলিন হাসি। মানবিক পৃথিবী গড়তে রক্তদানের এই ধারা অব্যাহত থাকুক।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...