Logo Logo

জমির দলিলে লাল কালির 'সমাপ্তকরণ সিল': কেন এটি দলিলের হৃদপিণ্ড?


Splash Image

সম্পত্তি কেনাবেচা কিংবা মালিকানা প্রমাণের ক্ষেত্রে মূল দলিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি। কিন্তু জমি বা সম্পত্তির মূল দলিলটি যখন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রেশন, বালামে নকল ও সূচিকরণ শেষ করে মালিকের হাতে ফেরত দেওয়া হয়, তখন তাতে যুক্ত হয় এক বিশেষ লাল কালির সিল। আইনি ভাষায় ও সরকারি কার্যালয়ে এটিকে বলা হয় ‘সমাপ্তকরণ সিল’। সাধারণ মানুষের কাছে এটি কেবল একটি সাধারণ সিলের ছাপ মনে হলেও আইন বিশেষজ্ঞ ও রেজিস্ট্রি অফিসের মতে একে দলিলের ‘হৃদপিণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।


বিজ্ঞাপন


একটি দলিল সম্পূর্ণ সঠিক আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে রেজিস্ট্রি হয়েছে কি না, তা এই সিলের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যায়। সাধারণত একটি ফেরতযোগ্য মূল দলিলের শেষ পাতার উল্টোদিকে আড়াআড়িভাবে লাল কালির এই সমাপ্তকরণ সিলটি প্রদান করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, ২০২২ সালে রেজিস্ট্রি হওয়া ১৫১৮ নম্বর একটি দলিলে দেখা যায়, এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে সেটি ১ নম্বর রেজিস্টার বইয়ের ৫০ নম্বর বালামের ৮৫ থেকে ৯২ পৃষ্ঠায় হুবহু নকল করা হয়েছে। এই তথ্যের মাধ্যমেই একটি দলিলের সব আইনি নথি সরকারি রেকর্ডরুমে সংরক্ষিত থাকে।

এই সমাপ্তকরণ সিলের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাব-রেজিস্ট্রার মাসুদ রানা জানান, এই সিলটি মূলত ভবিষ্যতের যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করে। কোনো কারণে জমির মূল দলিলটি হারিয়ে গেলে, আগুনে পুড়ে নষ্ট বা চুরি হয়ে গেলে জমির মালিককে উদ্বিগ্ন হতে হবে না। দলিলের শেষ পাতায় থাকা এই সিলের বালাম, বই ও পৃষ্ঠা নম্বর ব্যবহার করে যেকোনো ব্যক্তি ১০০ বছর পরও জেলা বা সদর রেকর্ড রুম থেকে হুবহু নকল (সার্টিফাইড কপি) তুলে তার সম্পত্তির মালিকানা অনায়াসে প্রমাণ করতে পারবেন। ফলে জমিজমা সংক্রান্ত আইনি জটিলতা বা মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধ এড়াতে প্রতিটি দলিলের সমাপ্তকরণ সিল সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।

ছবি ও তথ্য সুত্র:মাসুদ রানা,সাব-রেজিষ্ট্রার।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...