Logo Logo

স্বনির্ভরতার শিকড় থেকে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি:

বিএনপির ৪৮ বছর ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ


Splash Image

কৃষিবিদ মোঃ আতিকুর রহমানঃ ১ সেপ্টেম্বর- বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যবাহী দিন। ১৯৭৮ সালের এই দিনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। দীর্ঘ ৪৮ বছরের রাজনৈতিক অভিযাত্রায় দলটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তা, গণতন্ত্র, অর্থনীতি, কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক দর্শনের অধিকারী হয়ে উঠেছে।


বিজ্ঞাপন


প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নিছক আনুষ্ঠানিকতার দিন নয়; এটি আত্মপর্যালোচনা, আত্মসমালোচনা এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের অঙ্গীকার পুনর্নবীকরণের দিন। অতীতের অর্জনকে স্মরণ করার পাশাপাশি আগামী দিনের বাংলাদেশকে কোন দর্শন, কোন নীতি এবং কোন কর্মপরিকল্পনার ভিত্তিতে নির্মাণ করা হবে-সেই প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ারও দিন।

বিএনপির ইতিহাসের দিকে তাকালে একটি বিষয় সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়-বাংলাদেশের স্বনির্ভরতা ও অর্থনৈতিক মুক্তির সঙ্গে কৃষিকে কখনোই বিচ্ছিন্ন করে দেখা হয়নি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রচিন্তায় কৃষি ছিল কেবল একটি উৎপাদন খাত নয়; এটি ছিল গ্রামীণ অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং জাতীয় স্বনির্ভরতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

জিয়ার কৃষিদর্শন: স্বনির্ভরতার অর্থনৈতিক ভিত্তিঃ

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন বাংলাদেশের অর্থনীতি ছিল বিপর্যস্ত ও নানামুখী সংকটে পর্যুদস্ত। সেই বাস্তবতায় তাঁর রাষ্ট্রচিন্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল উৎপাদনমুখী অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা এবং জনগণকে উন্নয়নের সক্রিয় অংশীদারে পরিণত করা।

তাঁর ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচিতে কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং স্বনির্ভরতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছিল। তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের অন্তর্নিহিত বোধ ছিল অত্যন্ত বাস্তব-বাংলাদেশকে শক্তিশালী করতে হলে প্রথমে শক্তিশালী করতে হবে বাংলাদেশের গ্রামকে আর বাংলাদেশের গ্রামকে শক্তিশালী করতে হলে শক্তিশালী করতে হবে কৃষককে।

এই দর্শনের মধ্যে কোনো কৃত্রিমতা ছিল না। কারণ বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণস্পন্দন বরাবরই কৃষি ও গ্রামীণ সমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

সময়ের পরিক্রমায় কৃষির প্রকৃতি পরিবর্তিত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, লবণাক্ততা, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস, কৃষিজমির ক্রমহ্রাসমান প্রবণতা এবং উৎপাদন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি কৃষিকে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে।

ফলে আজ জিয়ার স্বনির্ভরতার দর্শনকে বাস্তবায়ন করতে হলে কৃষিকে শুধু উৎপাদনশীল নয়, প্রযুক্তিনির্ভর, তথ্যভিত্তিক, জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই করে তুলতে হবে।

খাল পুনরুজ্জীবন: প্রকৃতির সঙ্গে উন্নয়নের পুনঃসমঝোতাঃ

বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি মূলত নদী ও জলনির্ভর। নদী, খাল, বিল ও জলাশয় এ দেশের কৃষি-সভ্যতার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। কিন্তু দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দখল, দূষণ ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে অসংখ্য খাল আজ মৃতপ্রায়।

একটি খালের মৃত্যু কেবল একটি জলপ্রবাহের মৃত্যু নয়-এর সঙ্গে ধ্বংস হয় একটি এলাকার জলজ প্রতিবেশ, সেচব্যবস্থা, মৎস্যসম্পদ এবং কৃষির স্বাভাবিক ভারসাম্য।

এই বাস্তবতায় বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে নদী ও খাল পুনঃখনন এবং জলপথ পুনরুদ্ধারের ওপর গুরুত্ব একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার ইঙ্গিত বহন করে।

খাল পুনঃখননকে যদি বিচ্ছিন্ন কোনো অবকাঠামোগত প্রকল্প হিসেবে না দেখে সমন্বিত জলসম্পদ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে এর বহুমাত্রিক সুফল পাওয়া সম্ভব। বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন, শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানি সংরক্ষণ, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ হ্রাস, মৎস্যসম্পদের পুনরুজ্জীবন এবং কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

অর্থাৎ খাল পুনরুজ্জীবন কেবল পানি ফিরিয়ে আনা নয়, এটি কৃষির প্রাণপ্রবাহ পুনঃস্থাপন।

কৃষির নতুন দিগন্ত: GIS, ড্রোন ও প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচারঃ

একসময় কৃষকের প্রধান সম্পদ ছিল অভিজ্ঞতা। আজকের কৃষিতে অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তথ্য ও প্রযুক্তি।

কোন জমিতে মাটির আর্দ্রতা কত, কোথায় নাইট্রোজেনের ঘাটতি, কোন অংশে রোগের প্রাদুর্ভাব, কোথায় অতিরিক্ত সেচ প্রয়োজন কিংবা কোন জমিতে কোন ফসল অধিক উপযোগী-এসব প্রশ্নের উত্তর এখন প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা সম্ভব।

এখানেই Geographic Information System বা GIS কৃষির জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে।

GIS-এর মাধ্যমে একটি অঞ্চলের ভূমি ব্যবহার, মাটির বৈশিষ্ট্য, পানি, আবহাওয়া, ফসলের ধরন ও উৎপাদনসংক্রান্ত তথ্যকে একই প্ল্যাটফর্মে বিশ্লেষণ করা যায়। ফলে কৃষি পরিকল্পনা হতে পারে আরও বৈজ্ঞানিক ও স্থানভিত্তিক।

অন্যদিকে ড্রোন প্রযুক্তি কৃষকের মাঠ পর্যবেক্ষণের ধারণাকেই পাল্টে দিতে পারে। বিস্তীর্ণ কৃষিজমির ওপর দিয়ে ড্রোন উড়িয়ে ফসলের স্বাস্থ্য, রোগের বিস্তার, পানির ঘাটতি কিংবা ক্ষতির মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। ভবিষ্যতে ড্রোনভিত্তিক স্প্রে প্রযুক্তিও কৃষি উপকরণের অপচয় কমিয়ে উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে।

এর সঙ্গে যদি স্যাটেলাইট ইমেজ, সেন্সর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাসকে যুক্ত করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের কৃষি ধীরে ধীরে প্রবেশ করতে পারে Precision Agriculture বা নির্ভুল কৃষির যুগে।

এখানে লক্ষ্য শুধু বেশি উৎপাদন নয়; বরং কম সম্পদে অধিক উৎপাদন, কম অপচয়ে অধিক ফলন এবং পরিবেশের ওপর কম চাপ সৃষ্টি করে অধিকতর টেকসই কৃষি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা।

এটাই হতে পারে একবিংশ শতাব্দীর কৃষিতে স্বনির্ভরতার আধুনিক সংজ্ঞা।

কৃষককে ভর্তুকির গ্রহীতা নয়, অর্থনীতির অংশীদার করতে হবেঃ

কৃষকের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রায়ই আমরা কৃষি উপকরণ, সার, বীজ কিংবা ঋণের কথা বলি। কিন্তু কৃষকের প্রকৃত ক্ষমতায়ন আরও বিস্তৃত বিষয়।

কৃষককে হতে হবে উৎপাদন ব্যবস্থার সক্রিয় অংশীদার এবং কৃষি অর্থনীতির সম্মানিত উদ্যোক্তা।

এই জায়গায় কৃষক কার্ড, ডিজিটাল কৃষি তথ্যব্যবস্থা, কৃষিঋণ, ফসল বীমা, ন্যায্যমূল্য এবং বাজারসংযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

একজন কৃষক কখন বীজ বপন করবেন, কোন ফসল চাষ করবেন, কতটুকু সার ব্যবহার করবেন, কোথায় তার ফসল বিক্রি করলে ভালো দাম পাবেন-রাষ্ট্র যদি তাকে এসব বিষয়ে তথ্যনির্ভর সহায়তা দিতে পারে, তাহলে কৃষি আর কেবল জীবিকার ব্যবস্থা থাকবে না; এটি পরিণত হতে পারে আধুনিক উদ্যোক্তাভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে।

জিয়ার স্বপ্ন থেকে তারেক রহমানের আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তাঃ

বিএনপির রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, বেগম খালেদা জিয়ার Vision 2030 এবং তারেক রহমানের ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কারের কর্মসূচিকে একই ধারার ভিন্ন সময়ের রাজনৈতিক প্রতিফলন হিসেবে দেখা যায়।

সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে কর্মসূচির ভাষা ও উপকরণ পরিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু একটি মৌলিক প্রশ্ন অপরিবর্তিত থেকেছে-কীভাবে বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী, স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রে পরিণত করা যায়।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে কৃষিকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সংযুক্ত করার যে ভাবনা সামনে এসেছে, তার মধ্যে এই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার একটি আধুনিক রূপ প্রতিফলিত হয়।

জিয়ার সময় কৃষির আধুনিকায়নের অর্থ ছিল সেচ, উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ অবকাঠামো ও স্বনির্ভরতা; আজ সেই একই লক্ষ্য বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে GIS, ড্রোন, স্যাটেলাইট, ডিজিটাল ডেটা, প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

দর্শন একই-উপকরণ আধুনিক

এটাই সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক দর্শনের অভিযোজন।

বিএনপি ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাঃ

বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাস কেবল নির্বাচন, সরকার গঠন কিংবা ক্ষমতার পরিবর্তনের ইতিহাস নয়। বাংলাদেশের বহুদলীয় রাজনৈতিক কাঠামো, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দর্শন এবং রাষ্ট্রের স্বাধীন সত্তা নিয়ে যে বিতর্ক-তার একটি বড় অংশ বিএনপিকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে।

রাজনৈতিক ইতিহাসে মতপার্থক্য থাকবে, বিতর্ক থাকবে, সমালোচনা থাকবে। কিন্তু গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হলো-ভিন্নমতকে ধারণ করে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক রাজনৈতিক চিন্তার বিকাশ ঘটানো।

বিএনপির ৪৮ বছরের পথচলাকে তাই শুধু দলীয় আবেগ দিয়ে নয়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বৃহত্তর পরিপ্রেক্ষিতেও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

কারণ একটি দলের প্রকৃত শক্তি শুধু তার সাংগঠনিক বিস্তারে নয়; তার শক্তি নিহিত থাকে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রূপান্তরিত করার সক্ষমতায়।

সামনে বাংলাদেশের যে কৃষিঃ

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কৃষির ভবিষ্যতের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

আমাদের সামনে একদিকে খাদ্যনিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তন। একদিকে কৃষিজমির সংকোচন, অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা। একদিকে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, অন্যদিকে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্যের অনিশ্চয়তা।

এই বহুমাত্রিক সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন একটি সমন্বিত কৃষি বিপ্লব।

যেখানে খাল পুনরুজ্জীবিত হবে, কিন্তু তার সঙ্গে পানি ব্যবস্থাপনার বৈজ্ঞানিক সংস্কারও হবে।

যেখানে কৃষক কার্ড থাকবে, কিন্তু তার সঙ্গে থাকবে ডিজিটাল কৃষি ডেটাবেস।

যেখানে কৃষিযন্ত্র থাকবে, কিন্তু তার সঙ্গে থাকবে দক্ষ মানবসম্পদ।

যেখানে ড্রোন থাকবে, কিন্তু তার সঙ্গে থাকবে প্রশিক্ষিত কৃষি বিশেষজ্ঞ।

যেখানে GIS থাকবে, কিন্তু সেই GIS-এর তথ্য পৌঁছাবে প্রত্যন্ত গ্রামের কৃষকের হাতেও।

অর্থাৎ প্রযুক্তি যেন প্রদর্শনীর বিষয় না হয়ে কৃষকের বাস্তব জীবনের হাতিয়ার হয়ে ওঠে-এটাই হতে হবে আধুনিক কৃষিনীতির মূল দর্শন।

শেষ কথাঃ

১ সেপ্টেম্বর তাই কেবল ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়। এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি স্মরণীয় দিন। এটি একটি রাজনৈতিক দলের আত্মপরিচয়ের দিন, এটি একটি সংবাদপত্রের পথচলার স্মৃতির দিন, সর্বোপরি এটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে নতুন করে ভাবার দিন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্নের মাটিতে আজকের প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির বীজ রোপণ করা যেতে পারে।

খাল পুনঃখনন সেই মাটিতে পানির প্রবাহ ফিরিয়ে দিতে পারে।

GIS কৃষকের জমিকে তথ্যের মানচিত্রে রূপান্তর করতে পারে।

ড্রোন কৃষকের চোখকে আরও দূরদর্শী করতে পারে।

আধুনিক কৃষিযন্ত্র কৃষকের শ্রমকে আরও উৎপাদনশীল করতে পারে।

কৃষক কার্ড কৃষক ও রাষ্ট্রের সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক করতে পারে।

আর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারে-এই উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে যেন শেষ পর্যন্ত মানুষই থাকে।

জিয়াউর রহমানের স্বনির্ভরতার দর্শন থেকে তারেক রহমানের আধুনিকায়নের প্রত্যয়-এই দুই প্রান্তকে যদি প্রযুক্তি, গণতন্ত্র ও জনকল্যাণের সেতুবন্ধনে যুক্ত করা যায়, তবে বাংলাদেশের কৃষি শুধু খাদ্য উৎপাদনের খাত থাকবে না। এটি হয়ে উঠতে পারে জাতীয় অর্থনীতির পুনর্জাগরণের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।

৪৮ বছরের রাজনৈতিক অভিযাত্রার পর বিএনপির সামনে তাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু অতীতের উত্তরাধিকার বহন করা নয়-সেই উত্তরাধিকারকে ভবিষ্যতের উপযোগী করে পুনর্নির্মাণ করা।

কারণ ইতিহাস কেবল স্মরণ করার বিষয় নয়, ইতিহাস থেকে ভবিষ্যৎ নির্মাণের সাহস অর্জন করাই ইতিহাসের প্রকৃত শিক্ষা।

আর সেই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ হবে এমন এক বাংলাদেশ-যেখানে কৃষকের ঘরে স্বচ্ছলতা, তরুণের হাতে কর্মসংস্থান, নদী-খালে প্রাণের প্রবাহ, প্রযুক্তির হাতে উৎপাদনের নতুন শক্তি এবং সংবাদপত্রের পাতায় সত্য বলার অবাধ সাহস থাকবে।

সেই বাংলাদেশই হতে পারে স্বনির্ভরতার স্বপ্ন থেকে আধুনিকতার বাস্তবতায় উত্তরণের বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...