বিজ্ঞাপন
ঘটনাটি ঘটেছে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বাটিকামারী গ্রামে। জমিটির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবির মধ্যে বিরোধটি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা খবির খন্দকার গত ২৩ আগস্ট প্রেসক্লাব গোপালগঞ্জের সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১২ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আলমগীরের নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁর বাড়ির সামনে গিয়ে বেড়া ও ফলজ গাছ কেটে ফেলেন। এতে তাঁর প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
খবির খন্দকারের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চলছে। তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি মামলার সাক্ষীদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। মামলা তুলে না নিলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগে আলমগীরের সঙ্গে থাকা লায়েক মাতাব্বর, কাউসার মাতাব্বর, ছিদ্দিক মাতাব্বর ও জাহাঙ্গীর আলম জংগীরের নাম উল্লেখ করেছেন খবির খন্দকার।
তিনি বলেন, ঘটনার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পরে প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি দেখেন এবং তাঁকে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন। এ ঘটনায় গত ১৩ আগস্ট মুকসুদপুর সি.আর. ৬০৪/২৬ নম্বরে আদালতে মামলা করেন তিনি। তাঁর দাবি, আদালত মামলাটি গ্রহণ করে মুকসুদপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে আলমগীর বলেন, বিরোধপূর্ণ জায়গাটি কয়েকটি পরিবারের দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা এবং আগে থেকেই এটি সরকারি হালট হিসেবে পরিচিত। তিনি বলেন, তাঁরা কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি দখল করতে যাননি। সরকারি রেকর্ড ও কাগজপত্র যাচাই করলেই জায়গাটির প্রকৃত মালিকানা পরিষ্কার হবে।
আলমগীরের ভাষ্য, “আমাদের বিরুদ্ধে যে দখলের অভিযোগ করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত বিষয়টি বের করুক। জায়গাটি সরকারি হলে সেখানে সরকারি রাস্তা হওয়াটাই সবার জন্য ভালো হবে।”
একই দাবি করেছেন আলমগীরের ভাই জাহাঙ্গীর আলম। তাঁর ভাষ্য, বিরোধপূর্ণ জায়গাটি সরকারি এবং এটি খবির খন্দকারের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। খবির খন্দকার জায়গাটিকে পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করলে মালিকানার কাগজপত্র দেখাতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রশাসনের তদন্তে যে সিদ্ধান্ত আসবে, তাঁরা সেটিই মেনে নেবেন বলে জানান জাহাঙ্গীর।
অন্যদিকে খবির খন্দকারের দাবি, বিরোধপূর্ণ জায়গাটি তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তির অংশ এবং দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা সেটি ভোগদখল করে আসছেন। তিনি বলেন, “বৃদ্ধ বয়সে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হয়েও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”
ঘটনার প্রতিবাদে গত ১৭ আগস্ট খবির খন্দকার, তাঁর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা মানববন্ধন করেন। সেখানে তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে বিরোধপূর্ণ জায়গাটি সরকারি হালট নাকি ব্যক্তিমালিকানাধীন—এ বিষয়ে মুকসুদপুর উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. ইব্রাহীম খলীলের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জমিটির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। এক পক্ষ জায়গাটিকে পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করছে, অন্য পক্ষের দাবি এটি সরকারি হালট ও কয়েকটি পরিবারের চলাচলের পথ।
জমিটির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে সরকারি রেকর্ড, খতিয়ান, দাগ নম্বরসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই প্রয়োজন। একই সঙ্গে বেড়া ও গাছ কাটার অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে উভয় পক্ষ।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...