বিজ্ঞাপন
সামনে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ঠাসা সূচি অপেক্ষা করছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের জন্য। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ার মাটিতে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ফিফা আসিয়ান কাপ অভিযান শুরু করবে জামাল ভূঁইয়াদের পুরুষ দল। অন্যদিকে ১৪ সেপ্টেম্বর এশিয়ান গেমসে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মাঠে নামবে মারিয়া মান্দার নেতৃত্বাধীন নারী ফুটবল দল। গুরুত্বপূর্ণ এই দুই আন্তর্জাতিক মিশনকে সামনে রেখেই বাফুফের অফিশিয়াল কিট পার্টনার দেশীয় ব্র্যান্ড ‘দৌড়’ খেলোয়াড়দের জন্য এই নতুন ডিজাইনের কিট তৈরি করেছে।
জার্সি তৈরির পেছনের গল্প তুলে ধরে ‘দৌড়’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী আবিদ আলম চৌধুরী জানান, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীদের কাছ থেকে ১ হাজার ৩০০টিরও বেশি ইউনিক ডিজাইন সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেখান থেকে নিখুঁতভাবে ৩৪টি উপাদান বাছাই করে জার্সির চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে হোম জার্সির মূল থিম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘মাতৃভাষা’। সর্বাধুনিক ফেব্রিক প্রযুক্তিতে তৈরি এই জার্সির অন্যতম চমকপ্রদ বৈশিষ্ট্য হলো, ঘামে বা বৃষ্টিতে ভিজলেও এটি মাত্র ৮ মিনিটের মধ্যে শুকিয়ে যাবে। খেলোয়াড়দের ম্যাচ সংস্করণের জার্সির মূল্য ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং সাধারণ সমর্থকদের রেপ্লিকা জার্সির দাম রাখা হয়েছে ৭০০ টাকা। সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের সুবিধার জন্য দেশজুড়ে ইনফিনিটির ১৬৫টি আউটলেট এবং ‘দৌড়’-এর নিজস্ব ওয়েবসাইটে জার্সিটি বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে দুই অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ও মারিয়া মান্দার জার্সি পরা ছবি যখন ডিজিটাল স্ক্রিনে ভেসে ওঠে, তখন পুরো মিলনায়তনে করতালি ছড়িয়ে পড়ে। নতুন জার্সির গভীর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘জার্সি আমাদের আরেকটা পতাকা। বিশ্ব ফুটবলে বাংলাদেশের মতো নিবেদিত ও আবেগপ্রবণ সমর্থক সত্যিই খুব কম আছে। এই লাল-সবুজ জার্সি গায়ে জড়িয়ে সমর্থকরা যেন বুকভরা গর্ব অনুভব করতে পারেন, সেটিই আমাদের মূল চাওয়া।’
জার্সি উন্মোচনের পরপরই মঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয় বহুপ্রতীক্ষিত স্টেডিয়াম হস্তান্তর চুক্তি। বাফুফের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন এবং এনএসসির পক্ষে ক্রীড়া পরিচালক জাহেদ পারভেজ চৌধুরী সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির আওতায় কমলাপুর ও সিলেট স্টেডিয়াম বাফুফের প্রশাসনিক ও মাঠ ব্যবস্থাপনায় চলে এলো। তবে বাফুফে সভাপতি স্পষ্ট করে জানান, স্টেডিয়ামগুলোর চূড়ান্ত মালিকানা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের হাতেই থাকছে এবং প্রয়োজনে অন্যান্য ফেডারেশনও সমন্বয় করে এটি ব্যবহার করতে পারবে। বাফুফে মূলত আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ম্যাচের জন্য এই দুই স্টেডিয়ামের সার্বিক সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে, যা দেশের ফুটবলের পরিকাঠামোগত সংকট অনেকাংশেই দূর করবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...