Logo Logo

নীলফামারীতে আড়াই ঘণ্টা রেললাইন অবরোধ, বন্ধ ছিল ট্রেন চলাচল


Splash Image

তিতুমীর ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতি এবং ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম চালুর দাবিতে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার মিরজাগঞ্জ রেলস্টেশনে রেললাইন অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে চলা এই আন্দোলনের মুখে চিলাহাটি-খুলনা রুটে প্রায় আড়াই ঘণ্টা সব ধরনের ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকে। এতে ওই রুটের বিভিন্ন স্টেশনে একাধিক ট্রেন আটকা পড়ে এবং চরম ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ যাত্রীরা।


বিজ্ঞাপন


সকাল সাড়ে ৬টা থেকে উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের মিরজাগঞ্জ রেলস্টেশন চত্বরে এ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে জোড়াবাড়ীসহ আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়ন এবং পার্শ্ববর্তী পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলা থেকে আসা পাঁচ শতাধিক সাধারণ যাত্রী, ব্যবসায়ী ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ এই রেলওয়ে স্টেশনটি দীর্ঘদিন ধরে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও রেলওয়ের নীতিগত বৈষম্যের শিকার। গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন হওয়া সত্ত্বেও আধুনিক যোগাযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে বিশাল এই জনপদের মানুষকে।

রেলপথ অবরোধের প্রভাবে সকাল থেকেই ট্রেন চলাচলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। চিলাহাটি থেকে খুলনাগামী ‘রকেট মেইল’ চিলাহাটি স্টেশনে এবং খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী আন্তঃনগর ‘রূপসা এক্সপ্রেস’ ডোমার রেলস্টেশনে আটকা পড়ে থাকে। ফলে দূরপাল্লার যাত্রীদের দীর্ঘ সময় স্টেশনে অপেক্ষা করতে হয়, যাতে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের অবর্ণনীয় ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।

সমাবেশে স্থানীয় বাসিন্দা রহমত আলী ও জামাল উদ্দিনসহ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, মিরজাগঞ্জ স্টেশনের ওপর ডোমার ও দেবীগঞ্জের লাখো মানুষ নির্ভরশীল। অথচ বর্তমানে এই স্টেশনে তিতুমীর ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেসের মতো জরুরি আন্তঃনগর ট্রেনের কোনো যাত্রাবিরতি নেই। এর বাইরে বর্তমানে যেসব দুই-একটি লোকাল বা মেইল ট্রেন থামে, সেগুলো যাত্রী ওঠানামার উপযোগী ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের বদলে ২ নম্বর লাইনে দাঁড় করানো হয়। প্ল্যাটফর্মের নির্দিষ্ট উচ্চতা না থাকায় নিচ থেকে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে ঝুলে ঝুলে ট্রেনে উঠতে হয় নারী, শিশু ও রোগীদের, যা প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেন থামানো এবং তিতুমীর, রূপসা ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে অনির্দিষ্টকালের জন্য উত্তরবঙ্গের এই রুটে রেলপথ অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডোমার রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার রুবেল ইসলাম বাবু জানান, অবরোধ ও মানববন্ধনের কারণে সকাল ৬টা থেকে রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ডোমারে আটকে রাখা হয়েছিল। স্থানীয়দের কর্মসূচির কারণে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ওই রুটে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বিঘ্নিত হয়। পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...