শৈলদাহ নদীর ভাঙনে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমরিয়া ইউনিয়নের লেবুতলা-ডুমরিয়া সড়কের সড়াবাড়ী নামকস্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত শৈলদাহ নদীর দৈর্ঘ্য ৮ কিলোমিটার এবং গড় প্রস্থ ৩৪০ মিটার। টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এ নদীটি আঁকাবাঁকা গতিপথ ও ভাঙনপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। চলতি বর্ষা মৌসুমে নদীতে স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় ডুমরিয়া ইউনিয়নের সড়াবাড়ী, চিথলিয়া ও ছোট ডুমরিয়া পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
নদীভাঙনে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ লেবুতলা-ডুমরিয়া সড়কের বিভিন্ন অংশ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে সড়কটি দিয়ে চলাচলকারী হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেককে ৯ থেকে ১০ কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। একই সঙ্গে ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে প্রায় ৫০টি বসতবাড়ি, ইউনিয়ন পানি সরবরাহের পানির ট্যাংক, ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।
সড়াবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মো. শামীম মোল্লা (৬০) বলেন, নদীভাঙনে তার বাড়িঘর ও জমি বিলীন হয়েছে। এখন সড়কও ভেঙে যাচ্ছে। সড়াবাড়ী, চিথলিয়া ও ছোট ডুমরিয়া গ্রামের ৫০টি বসতবাড়ি, ফসলি জমি, ইউনিয়ন পানি সরবরাহের পানির ট্যাংক, স্কুল ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করছে। তবে এতে ভাঙন ঠেকানো সম্ভব হবে না, স্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা করতে হবে বলে তিনি দাবি করেন।
ভ্যানচালক আনন্দ কীর্ত্তনীয়া (৩৫) ও নূর মোহাম্মদ শেখ (৪৫) বলেন, সড়কের কোথাও ভেঙে গেছে, কোথাও আবার দেবে গেছে। এ অবস্থায় ভ্যান চালাতে খুব কষ্ট হয়। কোনো কোনো জায়গার অবস্থা এতটাই খারাপ যে যাত্রী নামিয়ে দিতে হয়। এতে টায়ার লিক, চেইন ছিঁড়ে যাওয়া এবং বিয়ারিং ও মোটর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। তাদের ১০ কিলোমিটার ঘুরে ডুমরিয়া-পাকুরতিয়া গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। নদীভাঙন প্রতিরোধের পাশাপাশি দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবি জানান তারা।
সড়াবাড়ী গ্রামের কলেজছাত্র হৃদয় শেখ (২১) বলেন, নদীভাঙন তাদের এলাকার বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও সড়ক গিলে খাচ্ছে। এ অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের গাড়িসহ বড় যানবাহন প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে রোগী পরিবহনসহ জরুরি সেবা ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে ৩ থেকে ৪ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। দ্রুত স্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা না করা হলে সড়কটি নদীগর্ভে চলে যাবে এবং যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে তিনি জানান।
চিথলিয়া গ্রামের গৃহবধূ বাসন্তী মিস্ত্রী বলেন, নদীভাঙনে তাদের বসতঘর অনেক আগেই বিলীন হয়ে গেছে। এখন জমিও ভাঙনের মুখে পড়েছে। সরকার বালুর বস্তা ফেললেও ভাঙন থামছে না। সম্পত্তি রক্ষায় দ্রুত ভাঙন বন্ধের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. জাকারিয়া ফেরদৌস বলেন, শৈলদাহ নদীর টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমরিয়া ইউনিয়নের তিনটি পয়েন্টে ১ হাজার ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন রয়েছে। সেখানে বালুর বস্তা ডাম্পিং করে অস্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, সাউথ ইস্ট প্রকল্পের আওতায় শৈলদাহ নদীর ভাঙন প্রতিরোধে একটি স্থায়ী প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নদীভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...