বিজ্ঞাপন
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক নাগরিক সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং পাথরঘাটা উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের বাস্তবায়নে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবেশকর্মী, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নদী শুধু পানির প্রবাহ নয়; নদীকে ঘিরেই উপকূলীয় জনপদের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও পরিবেশব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। কিন্তু দখল, দূষণ, অপরিকল্পিত উন্নয়ন, নাব্যতা সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের অনেক নদী অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে নদীনির্ভর মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর।
মানববন্ধনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনোজ কুমার কীর্তনিয়া বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। নদী ও পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সৌর, বায়ু ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জেলে এমাদুল মিয়া বলেন, নদী দিন দিন ভরাট ও দূষিত হচ্ছে। মাছ ধরতে গিয়ে জালে মাছের পরিবর্তে প্লাস্টিক-পলিথিনসহ বিভিন্ন বর্জ্য উঠে আসে। এখন আর আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না।
উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, বলেশ্বর-বিষখালীসহ নদীগুলো উপকূলীয় এলাকার মানুষের জীবন ও অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। নদীর স্বাস্থ্য ভালো থাকলে মৎস্যসম্পদ, কৃষি ও জীববৈচিত্র্যও সুরক্ষিত থাকবে। তাই নদী রক্ষাকে শুধু পরিবেশগত বিষয় হিসেবে নয়, জনজীবন ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবেও বিবেচনা করতে হবে।
তিনি বলেন, নদী দখল ও দূষণ বন্ধ, নদীর প্রবাহ ও নাব্যতা রক্ষা, জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা এখন সময়ের দাবি।
মানববন্ধন শেষে নদীর প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব এবং প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় নদীর ভূমিকা তুলে ধরে নদী রক্ষায় সচেতনতামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। কালমেঘা মুসলিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত এ আলোচনায় প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...