বিজ্ঞাপন
সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে সরাসরি ঘুষ নেওয়ার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর অবশেষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়েছেন নাটোর সদর উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের বহুল বিতর্কিত পেশকার আনন্দ কুমার রায়। ঘুষ গ্রহণের সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলায় তাকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।
রোববার (০৪ অক্টোবর) সকালে বরখাস্তের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাটোর সদর উপজেলা সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার মো. আশরাফুজ্জামান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১ অক্টোবর ভরের বাণী সহ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাটোর সদর সেটেলমেন্ট অফিসের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে একটি অনুসন্ধানী ভিডিও প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, জমির খতিয়ান ও রেকর্ড সংক্রান্ত সেবা নিতে আসা এক সাধারণ নাগরিকের কাছ থেকে ফাইল ছাড়ের নামে প্রকাশ্যে উৎকোচ গ্রহণ করছেন পেশকার আনন্দ কুমার রায়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ভূমি প্রশাসনে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়।
ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. লিয়াকত আলী স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক অফিস আদেশে আনন্দ কুমার রায়কে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার নির্দেশনা জারি করা হয়। একই সাথে দায়িত্বে অবহেলা ও অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের দায়ে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় মামলা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এদিকে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটিতে আরও একটি চাঞ্চল্যকর চিত্র উঠে আসে। জাহানারা বেগম নামে এক অজ্ঞাত নারীকে সেটেলমেন্ট অফিসে বসে নিজেকে ‘অফিস সহকারী’ পরিচয় দিয়ে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে অবৈধ ঘুষের দরকষাকষি করতে দেখা যায়। সরকারি কার্যালয়ে বহিরাগত ব্যক্তির এমন দৌরাত্ম্য দেখে নড়েচড়ে বসেছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।
ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের অপর এক অফিস আদেশে জানানো হয়েছে, জাহানারা বেগম সদর উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের কোনো বৈধ কর্মচারী না হওয়া সত্ত্বেও কার প্রশ্রয়ে অফিসে বসে লেনদেনের আলোচনা করেছেন, সে বিষয়ে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সেটেলমেন্ট অফিসে দীর্ঘদিন ধরে একটি মধ্যস্বত্বভোগী ও ঘুষ সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল। পেশকার বরখাস্তের ঘটনাকে সাধুবাদ জানিয়ে তারা পুরো কার্যালয়ে দালালচক্র ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে স্থায়ী নজরদারির জোর দাবি জানিয়েছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...