বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে সদরের রামনগর, কচুকাটা ও খোকশাবাড়ীসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেছে, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সড়ক ও বিভিন্ন সামাজিক-শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানের উন্মুক্ত স্থানে সারিবদ্ধভাবে গাছের চারা রোপণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে রামনগর ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি দৈনিক ভোরের বাণীকে বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে আমাদের এলাকাকে রক্ষা করতে গাছের বিকল্প নেই। রামনগর ইউনিয়নকে সবুজ ও বাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা এই তহবিল থেকে উদ্যোগটি নিয়েছি। তবে কেবল রোপণই শেষ কথা নয়, গাছগুলোর সঠিক পরিচর্যা ও সুরক্ষায় স্থানীয় অধিবাসীদেরও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসতে হবে।"
পরিবেশ সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে কচুকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ শাহ বলেন, "ইউনিয়ন পরিষদের সার্বিক উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি আমরা পরিবেশ সংরক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। চলতি কর্মসূচিতে প্রায় দুই হাজার চারা রোপণের মাধ্যমে আমাদের ইউনিয়ন সবুজে ঘেরা এক সুন্দর রূপ পাবে। চারাগুলো যেন সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে, সে লক্ষ্যে সার্বক্ষণিক তদারকির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।"
এদিকে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে খোকশাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রশান্ত রায় বলেন, "শুধু ইউনিয়ন পরিষদের প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেই চলবে না; পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রত্যেক নাগরিকের উচিত নিজ নিজ বসতবাড়ির আঙিনা ও পতিত জমিতে জলবায়ু উপযোগী বৃক্ষচারা রোপণ করা।"
ইউনিয়ন পরিষদের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয় বিশমুড়ী চাঁদের হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামসুল ইসলাম বলেন, "পরিবেশ রক্ষায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। ইউনিয়ন পরিষদের এই সামাজিক উদ্যোগ আমাদের শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করবে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণসহ চারপাশের সবুজ পরিবেশ ধরে রাখতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সর্বদা সহযোগিতা প্রদান করবে।"
শিক্ষার্থীদের পক্ষে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বিশমুড়ী চাঁদের হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাকিব জানায়, "একটি গাছ মানেই আমাদের সুন্দর ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা। নতুন রোপণ করা এসব চারা থেকে আমরা ভবিষ্যতে ফল, ছায়া ও বিশুদ্ধ অক্সিজেন পাব। চারাগুলোর সুরক্ষায় আমরা শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত যত্ন নেব।"
ইউনিয়ন পরিষদগুলোর এই সমন্বিত সবুজ উদ্যোগ নীলফামারী সদর উপজেলায় পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়নের এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...