Logo Logo

চিলাহাটিতে অব্যবহৃত শতকোটি টাকার অবকাঠামো, থমকে আছে সীমান্ত বানিজ্য


Splash Image

নীলফামারীর চিলাহাটিতে সীমান্ত বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও রেল যোগাযোগ সচল রাখার লক্ষ্যে নির্মিত প্রায় ১৩০ কোটি টাকার সরকারি অবকাঠামো পড়ে রয়েছে অব্যবহৃত অবস্থায়। ২০২১ সালে চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথে যোগাযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হলেও সরকারি সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং পাথর আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে এ রুটে পণ্য ও যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।


বিজ্ঞাপন


দীর্ঘদিন ধরে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত রেললাইন, ইয়ার্ড, আন্তর্জাতিক টার্মিনাল, কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন ভবনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নষ্ট হতে বসেছে। এতে একদিকে সরকারি সম্পদের অপচয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে সীমান্ত বাণিজ্যকে ঘিরে বিনিয়োগ করা স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম আর্থিক সংকটে।

সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রডগেজ রেললাইন ও ইয়ার্ড দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় সেগুলোতে মরিচা ধরছে। বিভিন্ন স্থানে গজিয়ে উঠেছে ঝোপঝাড়। প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন আন্তর্জাতিক টার্মিনাল, কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন ভবনও পড়ে রয়েছে অযত্নে। এ ছাড়া প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওভারব্রিজ ও সংযোগ সড়ক ব্যবহার না হওয়ায় ধুলোবালি ও শ্যাওলায় নষ্ট হতে বসেছে।

অন্যদিকে রেলপথে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে চিলাহাটি রেলওয়ে স্টেশনের রাজস্ব আয়ে। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে স্টেশনটির মাসিক রাজস্ব আয় ৮০ লাখ টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৩৫ লাখ টাকায়। ফলে সরকারি আয়ের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সীমান্ত বাণিজ্য চালু হওয়ার প্রত্যাশায় ব্যাংকঋণ নিয়ে পরিবহন, হোটেল ও ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছিলেন স্থানীয় অনেক উদ্যোক্তা। কিন্তু রেলপথে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তাঁদের ব্যবসায় মন্দা দেখা দিয়েছে। ঋণের বোঝা ও লোকসানের চাপে এসব ব্যবসায়ী এখন দেউলিয়া হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রাজিব হোসেন (৪৬) বলেন, দ্রুত এই রেলপথ চালু করা না হলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামো একসময় চিরতরে অকেজো হয়ে পড়বে।

এ বিষয়ে নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মো. হুমায়ূন কবীর জানিয়েছেন, অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ করা স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ব। তবে বন্দর ও রেলপথ পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সরকার এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর নির্ভরশীল।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথে বাণিজ্যিক ও যাত্রীসেবা পুনরায় চালু করতে দ্রুত দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু করতে হবে। তাঁদের মতে, কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে একদিকে বিপুল সরকারি সম্পদ রক্ষা পাবে, অন্যদিকে সীমান্ত বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল করার সুযোগ তৈরি হবে।

দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে কবে নাগাদ এই রেলপথে ট্রেন চলাচল ও সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় শুরু হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। তবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে চিলাহাটিতে নির্মিত বিপুল অর্থের অবকাঠামো নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের সংকট আরও গভীর হতে পারে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...