Logo Logo

একটি সামাজিক ও ধর্মীয় পর্যালোচনা

যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় ও ভাইরাল হওয়ার অন্ধ মোহ


Splash Image

আমাদের সমাজে কিছু মানুষকে দেখে আমরা মনে মনে অনেক উঁচুতে স্থান দিই। যাদের আমরা অত্যন্ত ভালো পরিবারের সন্তান, মার্জিত এবং ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ বলে মনে করতাম, আজ তাদের বাস্তব জীবনের চলাফেরা ও কর্মকাণ্ড দেখে তীব্রভাবে মর্মাহত হতে হচ্ছে। তাদের বাহ্যিক আচরণ এবং জীবনযাপনে এমন কিছু নেতিবাচক বিষয় প্রকাশ পাচ্ছে, যা দেখে স্পষ্ট মনে হয় তারা সমকামিতার মতো চরম পঙ্কিল ও নৈতিকতাবিরোধী আচরণে লিপ্ত রয়েছে।


বিজ্ঞাপন


সবচেয়ে বড় আফসোসের বিষয় হলো, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমান মানুষ কীভাবে সস্তা জনপ্রিয়তার লোভে পড়ে নিজের বিবেক বিসর্জন দিতে পারে? আজ তথাকথিত 'ভাইরাল' হওয়ার তীব্র নেশায় মত্ত হয়ে একশ্রেণীর যুবক নিজেদের শালীনতাবিবর্জিত ও অর্ধ-উলঙ্গ ছবি নির্দ্বিধায় ফেসবুকে পোস্ট করছে। যে ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ভালো কাজে ব্যবহার করা যেত, সেটাকে তারা বেছে নিয়েছে নিজেদের রুচিহীনতা ও আপত্তিকর ছবি প্রদর্শনের মাধ্যম হিসেবে। যেকোনো উপায়ে সমাজে সস্তা পরিচিতি বা ভাইরাল হওয়াই যেন আজ তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য।

অথচ আমাদের পবিত্র ইসলাম ধর্মে শালীনতা ও পর্দার ব্যাপারে কতটা কঠোর নির্দেশনা রয়েছে! শরীয়তের স্পষ্ট বিধান অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর এক কম্বলের নিচে বা একই বিছানায় একাধিক ব্যক্তির একত্রে শোয়া বা থাকা কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। ইসলাম যেখানে মানুষের গোপনীয়তা, লাজুকতা এবং চরিত্র রক্ষার জন্য এতটা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়ের ওপরও কড়াকড়ি আরোপ করেছে, সেখানে বর্তমান যুবসমাজের একটি অংশ প্রকাশ্য দিবালোকে সব সীমা লঙ্ঘন করছে। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে লক্ষ্য করছি যে, বর্তমান সময়ে অনেক নামী-দামী ও ভালো পরিবারের ছেলেপোলেরাও এই নোংরা ট্রেন্ডের পেছনে অন্ধের মতো ছুটছে। সস্তা প্রচারের এই মোহ তাদের ইহকাল ও পরকাল—উভয়কেই ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

এই ভয়াবহ নৈতিক বিপর্যয় থেকে মুক্তির উপায়: এই সামাজিক ও মানসিক ব্যাধি থেকে যুবসমাজকে ফিরিয়ে আনতে আমাদের সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। এর প্রধান সমাধানগুলো হলো:

১. পারিবারিক সচেতনতা ও নজরদারি: প্রতিটি পরিবারকে তাদের সন্তানদের প্রতি আরও যত্নশীল হতে হবে। সন্তান কার সাথে মিশছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কী করছে—সেদিকে পিতা-মাতাকে কড়া নজর রাখতে হবে। ভালো মন্দের পার্থক্য ছোটবেলা থেকেই পারিবারিক শিক্ষার মাধ্যমে গড়ে তুলতে হবে।

২. ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার বিস্তার: যুবসমাজের হৃদয়ে মহান আল্লাহর ভয় এবং পরকালের জবাবদিহিতার অনুভূতি জাগ্রত করতে হবে। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়, বরং কুরান ও হাদিসের আলোয় নৈতিক চরিত্রের বিকাশ ঘটানো অপরিহার্য।

৩. প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে সস্তা বিনোদন বা অশ্লীলতার হাতিয়ার না বানিয়ে জ্ঞানার্জন, সৃষ্টিশীল কাজ ও সামাজিক কল্যাণে ব্যবহার করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

৪. সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা: যুবসমাজকে অশ্লীলতা ও বিকৃতির পথ থেকে দূরে রাখতে সুস্থ বিনোদন, খেলাধুলা এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির সাথে যুক্ত করতে হবে, যাতে তাদের সৃজনশীল শক্তির সঠিক বিকাশ ঘটে।

এই ভয়াবহ নৈতিক বিপর্যয় থেকে আমাদের যুবসমাজকে ফিরে আসতেই হবে। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে, আমাদের সন্তানদের এবং সমগ্র যুবসমাজকে এই ধরনের কুরআন, হাদিস ও শরীয়ত বিরোধী জঘন্য কাজ থেকে রক্ষা করুন। আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন এবং হেদায়েতের পথে অবিচল রাখুন। আমিন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...