বিজ্ঞাপন
২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সকালে মাদ্রাসার ভেতরে এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সুপার ও স্থানীয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শাখার নায়েবে আমীর মাওলানা আজাদুল ইসলাম আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে নিজের অপরাধ স্বীকার করতে দেখা গেছে। অন্যদিকে, এত বড় অপরাধের পরও মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদ ও সহকর্মীদের একাংশ তাকে বিচার না করে ‘ক্ষমা’ করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ছাত্রী জানায়, ২২ অক্টোবর সকালে সে মাদ্রাসার একতলায় অবস্থান করছিল। সহপাঠী খাবার কিনতে গেলে সে একা ছিল। এ সময় সুযোগ বুঝে মাদ্রাসা সুপার তাকে নিজের কক্ষে ডাকেন। এরপর তার মুখ চেপে ধরে গালে কামড় দেন ও জোরপূর্বক চুমু খান।
শিক্ষার্থী আরও অভিযোগ করে, এরপর তাকে হাত ধরে টেনে সিড়ি দিয়ে তিন তলার নির্জন কক্ষে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। এর আগেও বিভিন্ন সময় বাথরুমে যাওয়া কিংবা একা পাওয়ার সুযোগে অভিযুক্ত সুপার তাকে অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে শরীর স্পর্শ করা, পা টেকানোসহ বিভিন্নভাবে যৌন নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। ঘটনার দিন মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে সে বাসায় গিয়ে তার মাকে গালে কামড়ে দেওয়ার দাগ ও যন্ত্রণার কথা জানায়।
ভুক্তভোগীর মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দুপুরের দিকে রান্না করার সময় মেয়ে এসে কান্নাকাটি করে পুরো ঘটনা বলে। আমি নিজের চোখে মেয়ের মুখে কামড়ের স্পষ্ট দাগ দেখেছি। এর আগেও মেয়ে মাদ্রাসায় যেতে চাইত না, আমরা কারণ বুঝিনি। এই ধরনের কামুক ও চরিত্রহীন হুজুরকে মাদ্রাসায় রাখা নিরাপদ নয়। দরকার হলে মেয়েকে অন্য মাদ্রাসায় ভর্তি করাব, কিন্তু এর বিচার চাই।”
ভুক্তভোগীর বাবা জানান, তিনি কাজের প্রয়োজনে বাইরে থাকায় বিষয়টি প্রথমে জানতেন না। পরে এসে স্ত্রী ও মেয়ের কাছে বিস্তারিত শুনেছেন এবং তারা এর কঠোর বিচার চান।
ঘটনার সত্যতা জানতে অভিযুক্ত সুপার মাওলানা আজাদুল ইসলামের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। কখনো তিনি ফোন কেটে দেন, আবার কখনো কল এড়িয়ে যান।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্ত সুপার নিজের মুখে শিকার করছেন— “আমি যা করেছি অন্যায় করেছি, এই কাজটি করা আমার ঠিক হয়নি।”
একই ভিডিওতে মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষকদের একাংশকে বলতে শোনা যায়, “তিনি নিজের মুখে অপরাধ স্বীকার করেছেন, তাই তাকে আমরা মাফ করে দিই। যত বড় অপরাধই করুক না কেন, আমরা তাকে ক্ষমা করে দেব।” অপরাধের এমন স্বীকারোক্তির পরও কোনো আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপ দেওয়ার এমন চেষ্টায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবক মহল।
স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ অভিভাবকরা অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত সুপার মাওলানা আজাদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার এবং কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষার্থী এমন নির্যাতনের শিকার না হয়।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...