বিজ্ঞাপন
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি বিএনপির ঘোষিত ইশতেহার বিশ্লেষণ করে বলেছে, দলটি তাদের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ‘ভারত-কেন্দ্রিক’ বেশ কিছু ইস্যুকে গুরুত্ব দিয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত হত্যা, ভারত থেকে কথিত ‘পুশ-ইন’, এবং দীর্ঘদিন ধরে অমিমাংসিত পানি বণ্টন সমস্যাকে ইশতেহারে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিএনপি পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনায় ‘সমতা ও আত্মসম্মান’-ভিত্তিক সম্পর্কের কথা বলেছে। দলটির নির্বাচনী স্লোগান হিসেবে নেওয়া হয়েছে—‘বন্ধুকে হ্যাঁ, প্রভুকে না’।
ইশতেহারে বলা হয়েছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না এবং একইভাবে নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপও মেনে নেবে না।
সীমান্ত পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বিএনপি সীমান্তে হত্যা, পুশ-ইন এবং চোরাচালান রোধে ‘কঠোর অবস্থান’ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
নদীর পানি বণ্টন ইস্যুতে দলটি তিস্তা ও পদ্মাসহ অভিন্ন নদীগুলোর ‘ন্যায্য হিস্যা’ আদায়ে ‘কার্যকর ব্যবস্থা’ গ্রহণের কথা বলেছে। এনডিটিভির মতে, এই অবস্থান দুই দেশের মধ্যকার অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়ে নতুন করে কূটনৈতিক চাপ তৈরির ইঙ্গিত দেয়।
একইসঙ্গে পানি ইস্যুকে অভ্যন্তরীণ উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ থেকে শুরু করে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে বিএনপি। পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী ব্যবস্থাপনা জোরদারে যৌথ নদী কমিশনকে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
এনডিটিভি আরও জানিয়েছে, ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, বিএনপির ইশতেহারের ভাষা ইঙ্গিত করছে যে দলটি বাংলাদেশের আলোচনার ধরনে একটি ভারসাম্য আনতে চাইবে এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রশ্নে দৃঢ় অবস্থান নেবে। তবে একইসঙ্গে বাণিজ্য ও আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্মগুলোতে কার্যকর সহযোগিতার ক্ষেত্র উন্মুক্ত রাখারও বার্তা রয়েছে।
এছাড়া বিএনপি ইশতেহারে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় জোট আসিয়ানে সদস্যপদ লাভের চেষ্টা চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এনডিটিভির বিশ্লেষণ মতে, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের কূটনৈতিক বিকল্প বিস্তৃত হতে পারে এবং কোনো একটি দেশের ওপর অতিনির্ভরশীলতা কমানোর পথ তৈরি হতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...