বিজ্ঞাপন
পৌর মার্কেটের ব্লক-৮-এর ১১৩ নম্বর দোকানে ‘রতি হোমিও ফার্মেসি’ খুলে তিনি নিয়মিত রোগী দেখছেন। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি সাংবাদিকদের একটি অনুসন্ধানী দল সরেজমিনে ওই ফার্মেসিতে তথ্য সংগ্রহে গেলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে রাম কৃষ্ণ গুহ নিজেই স্বীকার করেন যে, তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চতর ডিগ্রি নেই।
তিনি বলেন, “আমি আমার বাপ-দাদার কাছ থেকে চিকিৎসা শিখেছি এবং ছয় মাসের একটি ট্রেনিং করেছি।” তবে বিস্ময়কর বিষয় হলো, তিনি তার দাবিকৃত ছয় মাসের ট্রেনিং বা চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো বৈধ সনদ ও নিবন্ধন দেখাতে ব্যর্থ হন।
নিজেকে তিনি ‘এল.এইচ.এম.পি’ (LHMP) পরিচয় দিলেও এর সপক্ষে সরকারি বা স্বীকৃত কোনো প্রতিষ্ঠানের নথিপত্র তার কাছে নেই। কোনো প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি ছাড়াই তিনি নতুন, পুরাতন ও জটিল রোগের চিকিৎসার দাবি করছেন। বিশেষ করে ‘জার্মানি ঔষধ’ ব্যবহারের নামে জটিল রোগ সারানোর চটকদার প্রচার চালিয়ে তিনি সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কোনো অনুমোদন ছাড়াই নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন।
স্থানীয় এক ভুক্তভোগী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রকৃত ডিগ্রিধারী না হয়েও যদি কেউ এভাবে চিকিৎসা দেয়, তবে ভুল চিকিৎসায় বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে। এই অবৈধ কার্যক্রমের দায় কে নেবে—এমন প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুয়া বা অপ্রশিক্ষিত চিকিৎসকের হাতে চিকিৎসা নেওয়া জনস্বাস্থ্যের জন্য এক মারাত্মক হুমকি।
কোটালীপাড়ার সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে ‘রতি হোমিও ফার্মেসি’র বৈধতা যাচাই এবং রাম কৃষ্ণ গুহর কথিত ডিগ্রির সত্যতা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অনুমোদনহীন এই চিকিৎসা বাণিজ্য বন্ধে তারা সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
এখন জনমনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—কার অনুমতিতে একজন ডিগ্রিহীন ব্যক্তি নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে জনসমক্ষে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন? জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ কি সাধারণ মানুষের জীবনের সুরক্ষায় দ্রুত কোনো আইনি পদক্ষেপ নেবে? এলাকাবাসী এখন প্রশাসনের কঠোর অ্যাকশনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...