Logo Logo

৩০ হাজার টাকা চাঁদা না দিলে ৭ লাখ টাকার ভ্যাট মামলার হুমকি


Splash Image

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর বাজারে এক ব্যবসায়ীর কাছে ভ্যাট বকেয়ার অভিযোগ তুলে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ৩০ হাজার টাকা না দিলে ৭ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সাতটি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।


বিজ্ঞাপন


ভুক্তভোগী প্রান্ত সাহা, সাতৈর বাজারের ‘পাভেল কসমেটিকস অ্যান্ড ক্রোকারিজ’-এর মালিক। লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সিপাহী পরিচয়ধারী মুস্তাইন শাহ মামুন তার দোকানে এসে দাবি করেন, দোকানে বিপুল পরিমাণ ভ্যাট বকেয়া রয়েছে। অভিযোগে প্রান্ত সাহা বলেন, ওই ব্যক্তি তাকে বলেন, ‘৩০ হাজার টাকা দিলে বিষয়টি মিটিয়ে দেওয়া যাবে, অন্যথায় ৭ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির মামলা হবে।’

এ ধরনের দাবিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বলে জানান প্রান্ত সাহা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের ছোট দোকান। এখানে লাখ লাখ টাকার ভ্যাট বকেয়া থাকার প্রশ্নই আসে না। হঠাৎ এমন কথা শুনে আমি ভীত হয়ে পড়ি।’

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে টাকা দেওয়ার আলটিমেটাম দেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। নির্ধারিত দিনে তিনি পুনরায় দোকানে এলে প্রান্ত সাহা তার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা দিতে চান। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি তা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ১৫ হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

বিষয়টি বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ীদের নজরে এলে তারা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করেন। খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার পরিচয় নিশ্চিত করে। পরে তাকে ফরিদপুরে পাঠানো হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

সাতৈর বাজারের মিষ্টি ব্যবসায়ী স্বপন সাহা বলেন, ‘খবর পেয়ে দোকানে গিয়ে কথা বলি। তাকে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি ১৫ হাজার টাকা দাবি করেন এবং ভ্যাটের মামলা দেওয়ার হুমকি দেন।’

এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শিমুল বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। বাজারের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেন। দোকান মালিককে বলা হয়েছে, আইনের ব্যত্যয় হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করতে।’

অভিযুক্ত মুস্তাইন শাহ মামুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করতে দোকানে গিয়েছিলাম। তারা আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। আমি কোনো টাকা নেইনি।’

বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...