বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শান্তিগঞ্জ উপজেলার কাওয়াজুরী, উফতিরপাড়, লাউগাঙ্গ এবং দিরাই উপজেলার নগদিপুর, ছোট নগদিপুর, ধীতপুরসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোর হাজারো মানুষ এই লুটপাটে অংশ নেয়। ইফতারের পরপরই পরিকল্পিতভাবে তারা জলমহাল সীমানায় জড়ো হতে থাকে এবং একপর্যায়ে মব সৃষ্টি করে জলমহালটি জনসমুদ্রে পরিণত করে।
কাওয়াজুরী জলমহালের ইজারাদার আঙ্গুর মিয়া অভিযোগ করে জানান, তিনি শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা রাজস্ব দিয়ে জলমহালটি ইজারা নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে পোনা অবমুক্তকরণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ আরও প্রায় ২৪ লাখ টাকা ব্যয় করেন। মাছ ধরার মূল মৌসুম শুরুর আগেই এই লুটপাটের কারণে তার প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
ইজারাদারের দাবি, ভবিষ্যতে যেন কেউ এই জলমহাল ইজারা নেওয়ার সাহস না পায়, সেই উদ্দেশ্যেই একটি মহল এই পরিকল্পিত লুটপাট চালিয়েছে। হাজার হাজার মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে এই তাণ্ডব চালালেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুপস্থিতি এবং প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ অলি উল্যাহ এ বিষয়ে জানান, মাছ লুটপাটের বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানে না। ইজারাদার বা সংশ্লিষ্ট কেউ অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে প্রকাশ্য এই লুটপাটের ঘটনায় পুলিশের 'কিছুই জানি না' বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
ক্ষতিগ্রস্ত ইজারাদার দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এ ধরনের ঘটনার বিচার না হলে ভবিষ্যতে সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে এবং সাধারণ ইজারাদাররা বিনিয়োগ করতে ভয় পাবেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...