বিজ্ঞাপন
নেত্রকোনা পৌর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ কামরুল হক জানান, ১৯৮৪ সালে নেত্রকোনা জেলায় উন্নীত হলেও রৌহা ইউনিয়নের রাস্তাঘাটের তেমন উন্নয়ন হয়নি। ফলে দীর্ঘকাল ধরে এই অঞ্চলের মানুষকে বর্ষায় খেয়া নৌকা আর শুকনা মৌসুমে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করতে হতো। এতে বিভিন্ন সময় প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা ঘটেছে, বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া ছিল চরম দুর্ভোগের বিষয়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED) সূত্র মতে, জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সাকুয়া বাজার সংলগ্ন মগড়া নদীর ওপর এই ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ৭৫.২০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ফুটপাতসহ ৭.৩ মিটার প্রস্থের এই ব্রিজের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, নদীর দুই পাশে দুটি পিলার থাকলেও মাঝখানে কোনো পিলার থাকবে না।
নেত্রকোনা এলজিইডি-র সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, মেসার্স হামিম ইন্টারন্যাশনাল নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই ব্রিজের কাজ করছে। ২০২৪ সালের ৩ জুন কার্যাদেশ পাওয়ার পর থেকেই নির্মাণ কাজ শুরু হয়। দৃষ্টিনন্দন এই আর্চ আরসিসি ব্রিজটি নির্মিত হলে তা নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সাথে রৌহা ইউনিয়ন ও সাতপাই রেলক্রসিং বাজারের সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে।
নেত্রকোনা এলজিইডি-র নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান আশা প্রকাশ করেছেন যে, চলতি বছরের জুনের মধ্যেই ব্রিজের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে। এটি নির্মিত হলে রৌহা ইউনিয়নবাসীর অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে এবং তারা সহজেই উৎপাদিত ফসল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাজারজাত করতে পারবেন।
এই ব্রিজটি বিকল্প বাইপাস হিসেবে কাজ করায় জেলা শহরের যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বারহাট্টা, মোহনগঞ্জ, কলমাকান্দা, মধ্যনগর ও ধর্মপাশা উপজেলার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি ঘটবে, যা পুরো জেলার জনদুর্ভোগ লাঘব করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...