বিজ্ঞাপন
নিহত শান্তি বাইন বরৈহাটি গ্রামের সুশান্ত বৈরাগীর মেয়ে এবং দুই কন্যাসন্তানের জননী।
তার এই অকালমৃত্যুতে আট ও পাঁচ বছর বয়সী দুই শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবার ও এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শান্তি বাইনের স্বামী রুবেল বাইন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। বিয়ের কিছুকাল পর থেকেই তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে তিনি শান্তির ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। দুই কন্যাসন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে শান্তি দীর্ঘকাল এই অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করে সংসার করে আসছিলেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি নেশার টাকার জন্য শান্তিকে প্রচণ্ড চাপ দেন রুবেল। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রুবেল তাকে বেধড়ক মারধর করেন এবং পেট ও বুকে গুরুতর আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সঠিক চিকিৎসা না দিয়ে বাড়িতেই আটকে রাখা হয় বলে স্বজনদের অভিযোগ। পরদিন অবস্থার অবনতি হলে তাকে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও অভ্যন্তরীণ ক্ষতের কারণে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, গোপালপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য সরজিত বিশ্বাস ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয়দের দাবি, সরজিত বিশ্বাস ভয়ভীতি প্রদর্শন ও আর্থিক প্রলোভনের মাধ্যমে নিহতের পরিবারকে মামলা না করার জন্য চাপ দিচ্ছেন। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা কথা বলতে গেলে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং অভিযোগ অস্বীকার করেন।
টুঙ্গীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আইয়ুব আলী জানান, এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিহত শান্তি বাইনের পরিবার ও এলাকাবাসী এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত রুবেল বাইনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে পিতৃহীন হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা এবং মাতৃহীন দুই শিশুর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...