Logo Logo

তেঁতুলিয়ায় বিসিআইসি ডিলারদের সার কারসাজি, অনিয়ম ও পাচারের অভিযোগ


Splash Image

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় ফেব্রুয়ারি মাসের বরাদ্দকৃত ইউরিয়া সার উত্তোলনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ডিলাররা বরাদ্দের চেয়ে কম সার উত্তোলন করছেন এবং উত্তোলিত সারের একটি বড় অংশ স্থানীয় পয়েন্টে না পৌঁছে উপজেলার বাইরে বিক্রি করে দিচ্ছেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।


বিজ্ঞাপন


অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা কৃষি অফিস ও বিসিআইসি ডিলাররা যোগসাজশ করে কাগজে-কলমে সারের তথ্য ও ‘এরাইভাল’ ঠিকঠাক রাখছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, তেঁতুলিয়া উপজেলায় মোট সাতটি বিসিআইসি সার ডিলার রয়েছে। গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) পঞ্চগড় বিসিআইসি সার গুদামের তথ্য অনুযায়ী, মহানন্দা ট্রেডার্স ১১৭ মেট্রিক টনের বিপরীতে ৯৮ টন, আকিব এন্টারপ্রাইজ ১১৯ টনের বিপরীতে ৮০ টন, পিয়াশা এন্টারপ্রাইজ ১১৯ টনের বিপরীতে ১১২ টন এবং কেশব ট্রেডার্স ১১৭ মেট্রিক টনের বিপরীতে ৯৪ মেট্রিক টন সার উত্তোলন করেছে। এছাড়া নুরজাহান এন্টারপ্রাইজ ৯৭ টন এবং মেসার্স রুম্পা এন্টারপ্রাইজ ১০৯ মেট্রিক টন সার পে-অর্ডার বাবদ উত্তোলন করেছে। একমাত্র মেসার্স সাকিব ট্রেডার্স তাদের বরাদ্দকৃত ১১৯ মেট্রিক টন সারই উত্তোলন করেছে বলে দেখানো হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) প্রতিটি ডিলার পয়েন্টে সরেজমিনে গিয়ে তথ্য যাচাই করলে ব্যাপক গরমিল পরিলক্ষিত হয়। মেসার্স সাকিব ট্রেডার্স বাদে অন্যান্য প্রায় সকল ডিলার পয়েন্টে কর্মরত ব্যক্তি এবং উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের বক্তব্যে তথ্যের অমিল পাওয়া গেছে। এমনকি সাকিব ট্রেডার্সের গুদামেও সম্পূর্ণ সার আনা হয়েছে কিনা, তা নিয়ে স্থানীয়ভাবে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

পঞ্চগড় বিসিআইসি বাফার গুদামের উপ-ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) ও ইনচার্জ বোরহান বাদশা জানান, গুদাম থেকে যে পরিমাণ সার পে-অর্ডার ও উত্তোলন করা হয়েছে, কেবল সেই তথ্যই তারা দিতে পারেন। পে-অর্ডার অনুযায়ী সার উত্তোলন হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন। তবে উত্তোলিত সেই সার নির্দিষ্ট ডিলার পয়েন্টে পৌঁছালো কিনা, তা নিয়ে মাঠ পর্যায়ের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

তেঁতুলিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার সাবরিনা আফরিন এ প্রসঙ্গে বলেন, উপজেলায় ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য মোট ৮২৮ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক ডিলার তাদের বরাদ্দকৃত সম্পূর্ণ সার উত্তোলন করতে বাধ্য। যদি কোনো ডিলার বরাদ্দের চেয়ে কম উত্তোলন করেন কিংবা উত্তোলিত সার অন্য কোথাও বিক্রি করে দেন, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...