বিজ্ঞাপন
রবিবার (১ মার্চ) রাতে কুয়াকাটা পৌরসভার পাঞ্জুপাড়া এলাকায় এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। আহত লোকমান মৃধা কুয়াকাটা প্যালেস হোটেলের মালিক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাখাইন মহিলা মার্কেটের ঝিনুক ব্যবসায়ী রাসেল খান ও মিরাজ ওই হোটেলে গিয়ে নিয়মিত ইয়াবা সেবন করতেন। হোটেল মালিক লোকমান মৃধা এতে বাধা দেওয়ায় তারা পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালায়। হামলাকারীরা কুয়াকাটায় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, হামলাকারীরা লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে লোকমান মৃধার দুই পা থেঁতলে দেয়। এতে তার চারটি দাঁত উপড়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুয়াকাটার ২০ শয্যার হাসপাতালে নিয়ে যায়।
কুয়াকাটা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, রাত ৮টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় লোকমান মৃধাকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বর্তমানে তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
আহতের মেয়ে সাজেদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, রাসেল খান ও মিরাজ নিয়মিত তার বাবার হোটেলে গিয়ে মাদক সেবন করতেন। এর প্রতিবাদ করায় তারা হত্যার উদ্দেশ্যে এই নৃশংস হামলা চালিয়েছে। তার বাবা এখন হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন বলেও তিনি জানান।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ ফারুক মীর জানিয়েছেন, অভিযুক্ত মিরাজকে আগেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্ত রাসেল খান যদি এই ঘটনায় জড়িত থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মহিপুর থানার পরিদর্শক (ওসি) মো. মহব্বত খান জানান, এই নৃশংস ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...