বিজ্ঞাপন
ঘটনাটি কয়েকদিন আগের। জুবায়েরের দোকানে চা পান করতে আসা এক ক্রেতা অসাবধানতাবশত একটি ব্যাগ ফেলে যান। পরে জুবায়ের ব্যাগটি খুলে দেখতে পান, ভেতরে গচ্ছিত রয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭০ টাকা। বিশাল অঙ্কের এই অর্থ পেয়েও কোনো প্রলোভন তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। বরং প্রকৃত মালিককে খুঁজে পেতে জুবায়ের স্থানীয়ভাবে মাইকিং করান এবং প্রশাসনের দারস্থ হন।
জুবায়েরের নিরলস প্রচেষ্টায় অবশেষে খোঁজ মেলে টাকার প্রকৃত মালিক মিরাজ শেখের (৭০)। ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের বাসিন্দা মিরাজ শেখ দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছেন। তার পরিবার জানায়, ঈদের পর মিরাজ শেখের হৃদরোগের অস্ত্রোপচারের (সার্জারি) জন্যই অনেক কষ্টে এই টাকা জমা করা হয়েছিল। টাকা হারিয়ে বৃদ্ধ মিরাজ শেখ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।
প্রয়োজনীয় প্রমাণ যাচাই-বাছাই শেষে এক আবেগঘন পরিবেশে জুবায়ের পুরো টাকা মিরাজ শেখের হাতে তুলে দেন। হারানো টাকা ফিরে পেয়ে অশ্রুসিক্ত মিরাজ শেখ বলেন, “আজও যে পৃথিবীতে এমন সৎ মানুষ আছে, তা জুবায়েরকে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না। আমি তার জন্য প্রাণভরে দোয়া করি।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুবায়ের কেবল এই ঘটনাই নয়, নিয়মিতভাবে তার মাসিক আয়ের প্রায় ৩০ শতাংশ অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সেবায় ব্যয় করেন। গোপনে অনেক দরিদ্র শিক্ষার্থী ও দুস্থ রোগীর পাশে দাঁড়ানো জুবায়ের এখন ভাঙ্গাবাসীর কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম। জুবায়েরের এই মহানুভবতা ও সততার প্রশংসা এখন পুরো এলাকা জুড়ে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...