বিজ্ঞাপন
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দোয়ারাবাজার উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম (২য় পর্যায়) নির্মাণ প্রকল্পের দোহাই দিয়ে জেলা প্রশাসনের অনুমতিপত্র দেখিয়ে এই বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। শর্তানুযায়ী নির্ধারিত স্থান থেকে ৭ লাখ ৪০ হাজার ৯৩৪ ঘনফুট বালু উত্তোলনের কথা থাকলেও সিন্ডিকেটটি সেই স্থান এড়িয়ে নুরপুর গ্রামের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় নদীর পাড় কেটে ড্রেজার বসিয়েছে। এর ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং তীরবর্তী এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে।
সরকার যেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে নুরপুর, হরিনাটি ও সোনাপুর এলাকায় নদীভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে, সেখানে একই স্থানে ড্রেজার বসিয়ে পাড় কাটা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আমবাড়ী বাজার এলাকার ‘নুর’ নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে এই সিন্ডিকেট দিন-রাত অবৈধভাবে বালু তুলে বাজারে বিক্রি করছে। সরকারি প্রকল্পের বালু কেন খোলা বাজারে যাচ্ছে এবং কেন গভীর রাতে জনবসতির পাশে ড্রেজিং করা হচ্ছে—এমন প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন সরাসরি বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনের লঙ্ঘন।
এ বিষয়ে ছাতক নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন জানান, গ্রামবাসী তিনজনকে আটক করে তাদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। বর্তমানে কাগজপত্র যাচাই ও তদন্ত চলছে; জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবেশবিদরা সতর্ক করেছেন যে, সুরমা নদীর পাড় এভাবে কাটা অব্যাহত থাকলে নদীর গতিপথ পরিবর্তনসহ হাওরাঞ্চলে স্থায়ী জলাবদ্ধতা ও ব্যাপক ভূমিক্ষয় দেখা দেবে।
অবিলম্বে সব অবৈধ ড্রেজার জব্দ এবং শর্ত ভঙ্গের দায়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...