Logo Logo

টুঙ্গিপাড়ায় ৪শ’ বছরের জামাই মেলা ঘিরে আনন্দ-উৎসব


Splash Image

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার জোয়ারিয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ‘জামাই মেলা’। মধ্য ফাল্গুনে শীতলা পূজা উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও এই মেলার আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) পূজা শেষে শুরু হওয়া এই মেলা বুধবার (৪ মার্চ) গভীর রাত পর্যন্ত চলে।


বিজ্ঞাপন


মেলা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪০০ বছর আগে এই গ্রামে কলেরা, বসন্ত ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন মহামারির প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে গ্রামবাসী শীতলা মায়ের পূজা শুরু করেন। এরপর থেকেই এই পূজাকে ঘিরে মেলা শুরু হয়, যা কালক্রমে ‘জামাই মেলায়’ রূপ নিয়েছে। উৎসবকে কেন্দ্র করে দূর-দূরান্ত থেকে জামাইরা সস্ত্রীক শ্বশুরবাড়িতে আসেন এবং মেলা থেকে কেনাকাটার প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠেন।

এবারের মেলার প্রধান আকর্ষণ ছিল বিশাল আকৃতির মাছ এবং বৈচিত্র্যময় মিষ্টির সমাহার। বালিশ মিষ্টি, আমৃত্তি, ছানার জিলাপি ও রসগোল্লার দোকানে ছিল উপচে পড়া ভিড়। এছাড়া টাটকা ইলিশ, রুই মাছ এবং হাঁস-মুরগি ও খাসির মাংসের বাজারে জামাইদের কেনাকাটার ধুম লক্ষ্য করা যায়। গ্রামীণ প্রবাদ অনুযায়ী, যে জামাই সবচেয়ে বড় মাছ বা বেশি মিষ্টি কিনতে পারেন, এলাকায় তার বিশেষ সুনাম ছড়িয়ে পড়ে।

ঐতিহ্যবাহী এই মেলা পরিদর্শন করেন গোপালগঞ্জ-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এস এম জিলানী। তিনি মেলা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং পুরো মেলাঙ্গন ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি গ্রামীণ এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবং উৎসবের আমেজ বজায় রাখতে সব ধরণের সরকারি সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতার প্রতিশ্রুতি দেন।

সপ্তপল্লী-জোয়ারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিশির কুমার বলেন, এই মেলা শুধু কেনাবেচার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতি ও পারিবারিক বন্ধনের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি।

মেলা কমিটির সভাপতি অমল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, জামাইদের উপস্থিতিতে এই উৎসব এখন এলাকার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...