বিজ্ঞাপন
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২১টি কনসালটেন্ট পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৫ জন। ভুক্তভোগী রোগীদের অভিযোগ, এই চিকিৎসকরা নিজেদের খেয়ালখুশি মতো হাসপাতালে আসেন এবং রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এমনকি নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের টেস্ট রিপোর্ট ছাড়া তারা রোগী দেখতে অস্বীকৃতি জানান বলেও অভিযোগ রয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সরজমিনে দেখা যায়, বেলা ১১টা ১০ মিনিটে হাসপাতালে প্রবেশ করছেন অর্থোপেডিক চিকিৎসক কাজী করিম নেওয়াজ। শিশু চিকিৎসক ডাঃ আমামা আক্তারের কক্ষটি বেলা ১১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত তালাবদ্ধ ছিল। গাইনি চিকিৎসক ডাঃ শিপ্রা নন্দী সপ্তাহে মাত্র দুই দিন হাসপাতালে আসেন এবং বাকি সময় অনুপস্থিত থেকেও পুরো মাসের বেতন তুলছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া চক্ষু চিকিৎসক ডাঃ আবির মল্লিক এবং এনেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোঃ শাহজাহানকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি।
চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির কারণে তাদের বাধ্য হয়ে জেলা শহর বা প্রাইভেট ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুই-ই অপচয় হচ্ছে। তারা আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কঠোর নির্দেশনা উপেক্ষা করেই চিকিৎসকরা এমন খামখেয়ালি আচরণ করছেন।
অনিয়মিত উপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থোপেডিক চিকিৎসক ডাঃ কাজী করিম নেওয়াজ জানান, নতুন যোগদানের কারণে বেতন সংক্রান্ত কাজে দেরি হয়েছে। শিশু কনসালটেন্ট ডাঃ আমামা আক্তার অসুস্থতার অজুহাত দিয়েছেন। তবে অন্য অভিযুক্ত চিকিৎসকদের ফোনে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ তানভীর আহমেদ প্রথমে চিকিৎসকদের পক্ষে সাফাই গাইলেও পরে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, কিছু চিকিৎসকের ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক সমস্যার কারণে দেরি হতে পারে। তবে অনিয়মিত চিকিৎসকদের সতর্ক করা হয়েছে এবং পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...