বিজ্ঞাপন
এর পূর্বে গত ২৬ ফেব্রুয়ারী পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা ডিভিএম পুনর্বহালের দাবীতে উপ-উপাচার্য বরাবর স্মারক লিপি প্রদান করেন।
যেখানে উল্লেখ করা হয়, তারা পূর্বে ডিভিএম ডিসিপ্লিনের নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ডিভিএম এবং অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রি বাতিল করে তাদের বি.এস.সি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিট পিটিশন নং ১৭৩১৮/২০২৫ মামলার রায়ে পৃথকভাবে ডিভিএম ও বি.এসসি এএইচ (অনার্স) ডিগ্রি বাতিলের সিদ্ধান্তকে আইনবহির্ভূত ঘোষণা করা হয় এবং স্বতন্ত্র কোর্সসমূহ সমান্তরালভাবে চালু রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়। রায়ের আলোকে শিক্ষার্থীরা তাদের একাডেমিক অবস্থান স্পষ্ট হওয়ায় পূর্বের ডিভিএম ডিগ্রি দাবী জানায়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষণীয় না হওয়ায় ডিভিএম ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করতে বাধ্য হয় বলে জানা যায়।
এ সময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপস্থিত এক শিক্ষার্থী বলেন, "আমরা যেহেতু ডিভিএম ডিগ্রিতে ভর্তি হয়েছি, তাই আমাদের দাবি একটাই আমরা ডিভিএম ডিগ্রিই অর্জন করতে চাই। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই ডিগ্রি আমাদের মূল ভর্তি ডিসিপ্লিনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং ভবিষ্যতে কোনো আইনি জটিলতায় পড়তে না চাইলে এর পুনঃবাস্তবায়ন অপরিহার্য।"
তিনি আরো বলেন, "দুঃখজনকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নানা অজুহাত দেখিয়ে আমাদের যৌক্তিক দাবিকে দমন করার চেষ্টা করছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বিভিন্ন মহল থেকে শিক্ষার্থীদের ফোন করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই এ ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন আমাদের ন্যায্য দাবি থেকে সরাতে পারবে না।
আমাদের দাবি মেনে না নিলে আমরা শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো। আমরা শান্তিপূর্ণ ও ন্যায্য আন্দোলনে বিশ্বাসী, তবে প্রয়োজন হলে তা আরও শক্তিশালী রূপ নেবে।"
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বলেন, "উচ্চ আদালতে মামলাটি এখনো চলমান রয়েছে এবং এর পূর্ণাঙ্গ রায় পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে। আমরা আশাবাদী যে চলতি সপ্তাহেই আদালত থেকে একটি নির্দেশনা পাওয়া যাবে, যা আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।"
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলামকে মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...