বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরতলির পীরবাড়ি ও সদর উপজেলার শরীফপুর এলাকার সেভেন স্টার পিও ফুটওয়্যার, আইকন পিও ফুটওয়্যারসহ বেশ কিছু কারখানা ঘুরে দেখা গেছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। কারিগররা প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করছেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকারি ব্যবসায়ীরা এখান থেকে জুতা সংগ্রহ করে নিয়ে যান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পিও ফুটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, জেলায় বর্তমানে ৪০টি মেশিনে তৈরি (পিও) এবং ২০-২৫টি হাতে তৈরি জুতার কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার শ্রমিক নিয়োজিত আছেন। প্রতিদিন গড়ে সোয়া এক লাখ জোড়া জুতা উৎপাদিত হচ্ছে, যার পাইকারি মূল্যমান সাইজভেদে ২৫০ থেকে ৬৫০ টাকা পর্যন্ত।
তবে এতো ব্যস্ততার মাঝেও ব্যবসায়ীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ লক্ষ্য করা গেছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও যুদ্ধাবস্থার প্রভাবে পাইকারি অর্ডার গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম। কারখানা মালিকদের মতে, এবার রাসায়নিক কাঁচামালের সংকট না থাকলেও বাজারে দেশীয় জুতার চাহিদা আশানুরূপ নয়। বিশেষ করে বিদেশি জুতা আমদানির কারণে দেশীয় পাদুকাশিল্প অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে বলে তারা জানান।
সেভেন স্টার পিও ফুটওয়্যারের মালিক ও অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. হানিফ মিয়া বলেন, উৎপাদন ভালো হলেও বাজারে জুতার চাহিদা প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়ছে না। বিদেশি জুতা আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে দেশীয় উদ্যোক্তারা পুঁজি হারানোর ঝুঁকিতে থাকবেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও ঋণ সহায়তা বৃদ্ধির পাশাপাশি জুতা আমদানি সীমিত করলে এই শিল্প থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। দেশীয় পাদুকাশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কারখানা মালিক ও শ্রমিকরা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...