বিজ্ঞাপন
ঘটনার সূত্রপাত হয় ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম (ছদ্মনাম) নামে এক ব্যক্তির বিয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কাজী মোখলেছুর রহমান ওই ব্যক্তির বিয়ে নিবন্ধন করেন যেখানে দেনমোহর ধার্য করা হয় ৩০ লাখ টাকা। বিস্ময়করভাবে, বিয়ের মাত্র দুদিন পর কাজী নিজেই বিবাহ রেজিস্টারে সেটি 'বাতিল' বলে উল্লেখ করেন, যা প্রচলিত নিয়মের পরিপন্থী। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কাগজে-কলমে তালাক দেখানো হলেও ওই দম্পতি গত দুই বছর ধরে স্বাভাবিকভাবে সংসার করছেন।
কাজী মোখলেছুরের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বাল্যবিবাহ সম্পাদন, আগের তারিখ দেখিয়ে বিয়ে বা তালাক নিবন্ধন এবং একাধিক অবৈধ রেজিস্টার বই সংরক্ষণ করেন।
স্থানীয়দের দাবি, জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের সঠিক তদারকির অভাব বা যোগসাজশের সুযোগ নিয়েই তিনি এসব অনৈতিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগেও একটি বিয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে কারাবরণ করতে হয়েছিল।
রেজিস্ট্রার অফিসের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বৈধ অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া বা তথ্য গোপন করে অর্থের বিনিময়ে বিয়ে পড়ানো দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এটি কেবল আইনি লঙ্ঘনই নয়, বরং একটি চরম সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়।
অভিযোগের বিষয়ে কাজী মোখলেছুর রহমান জানান, ৩০ লাখ টাকা দেনমোহরের বিয়ে ও পরবর্তীতে তা বাতিলের বিষয়টি করা ঠিক হয়নি। সমাজের প্রভাবশালী মহলের চাপে তিনি এটি করতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেন। জেল খাটার বিষয়টিকে 'ভুল বোঝাবুঝি' হিসেবে উল্লেখ করে তিনি ভবিষ্যতে সতর্ক থাকার অঙ্গীকার করেন।
ঠাকুরগাঁও জেলা রেজিস্ট্রার মো. হেলাল উদ্দিন এই প্রসঙ্গে জানান, বিয়ের দুদিন পর বিবাহ বাতিলের কোনো আইনি সুযোগ নেই এবং তালাক নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ আলাদা। কাজীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...