বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে দেবনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার সোলিং কাজে এক নম্বর ইটের পরিবর্তে তিন নম্বর বা 'শাল্টি' ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া সিসি ঢালাইয়ের কাজে নিম্নমানের সিমেন্ট, পাথরের চিপস ও ইটের খোয়া ব্যবহারের দৃশ্য চোখে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দেবনগর পাকা রাস্তা হতে বিএনপি অফিস পর্যন্ত মাটি ভরাট ও ইউড্রেন নির্মাণের বরাদ্দ থাকলেও কোনো কাজই করেননি সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান।
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় খেকিডাঙ্গী রাস্তা সোলিংয়ে ২ লাখ ৬৪ হাজার, মাঝগ্রাম তরিফ উদ্দিনের বাড়ি হতে রসিদুলের বাড়ি পর্যন্ত ২ লাখ ৫০ হাজার এবং নিজবাড়ী মহিলা মাদ্রাসা পর্যন্ত সিসি ঢালাইয়ে ২ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এছাড়া কাবিটা প্রকল্পের আওতায় দলুয়াগছ, নন্দগছ, মাগুরমারী ও ময়নাগুড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় ইটের সোলিংয়ের জন্য গড়ে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কাবিখা প্রকল্পের আওতায় চাল ও গম বরাদ্দ থাকলেও কাজের মান নিয়ে জনমনে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
খেকিডাঙ্গী এলাকার বাসিন্দা কাফি ও হালিমসহ স্থানীয়রা জানান, রাস্তায় যে ইট ব্যবহার করা হচ্ছে তা অত্যন্ত নিম্নমানের। কয়েক মাস না যেতেই এগুলো ভেঙে রাস্তা দেবে যাবে। দলুয়াগছ এলাকায় স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, রাস্তার এজিং নরম মাটিতে পুঁতে দেওয়া হচ্ছে, যা বর্ষা এলেই ধসে পড়বে।
ইতিপূর্বে অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে কর্তৃপক্ষের ওপর আস্থা হারিয়েছেন এলাকাবাসী।
এই বিষয়ে দেবনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ছলেমান আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি দায়সারা উত্তর দিয়ে বলেন, "মেম্বাররা কখন কাজ করছে তা আমাকে বলছে না। ইট নিম্নমানের কি না সেটাও আমি বলতে পারছি না।"
এদিকে, গত ৫ মার্চ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম শাহ অদ্ভুত দাবি করেন। তিনি নিম্নমানের সামগ্রী দেখতে পাননি বলে জানান এবং স্থানীয়দের অভিযোগকে তোয়াক্কা না করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু এ প্রসঙ্গে বলেন, "প্রকল্প তদারকির জন্য নির্দিষ্ট দপ্তর রয়েছে। তবে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার সত্যতা পাওয়া গেলে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে কোনো বিল পরিশোধ করা হবে না।"
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি অর্থের অপচয় রোধে এসব প্রকল্পের অনিয়ম তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...