বিজ্ঞাপন
বুধবার (১১ মার্চ) রাতে উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. মিলন সিকদার (৩৫) ও মো. মামুন সিকদার (৪৫)। এই মামলার অন্য পলাতক আসামিরা হলেন— মাওদুদ সিকদার মনু (৩৫), মানিক দে (৩০) ও জাকির হোসেন (২৫)।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, সাতুরিয়া ইউনিয়নের নৈকাঠি বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী মো. আল আমিন (২৮) বাদী হয়ে রাজাপুর থানায় এই চাঁদাবাজি ও মারধরের মামলাটি দায়ের করেন। আল আমিন নৈকাঠি এলাকার মোকছেদ আলী হাওলাদারের ছেলে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা দীর্ঘ দিন ধরে নৈকাঠি বাজার ও আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। তারা বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ী— হালিম আকন, রহিম সিকদার, সেলিম সিকদার, নুরুজ্জামানসহ আরও অনেকের কাছ থেকে নিয়মিত ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করে আসছিল।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রায় ছয় মাস আগে আসামিরা আল আমিনের দোকানের সামনে এসে ব্যবসা সচল রাখতে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। প্রাণভয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আল আমিন তাদের ১০ হাজার টাকা প্রদান করেন। কিন্তু বাকি টাকার জন্য আসামিরা তাকে ক্রমাগত হুমকি দিতে থাকে। গত ৪ মার্চ সকালে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাজারে এসে পুনরায় চাঁদা দাবি করে। আল আমিন টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা লোহার রড ও লাঠি দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে এবং তার কাছে থাকা নগদ ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে আসামিরা হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে আহত আল আমিনকে উদ্ধার করে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাদের ঝালকাঠি আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...