অভিযুক্ত বিএনপি নেতা নান্টু শেখ।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার পাটগাতি ইউনিয়নের বাঘিয়ারকুল (বাগানবাড়ী) গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
পেশাগত কাজে বাধা প্রদানসহ সাংবাদিকদের সাথে অশুভ আচরণের অভিযোগ উঠেছে পাটগাতি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নান্টু শেখের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঘিয়ারকুল গ্রামের বিশ্বজিৎ মন্ডল প্রশাসনের কোনো অনুমতি ছাড়াই বালু দিয়ে তার বাড়ির সামনের একটি পুকুর ভরাট করছিলেন। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন (সংশোধিত ২০০২) অনুযায়ী জলাশয় ভরাট দণ্ডনীয় অপরাধ হওয়ায় বিষয়টি সরেজমিনে দেখতে যান সাংবাদিকরা।
ঘটনাস্থলে সাংবাদিকরা জমির মালিকের কাছে পুকুর ভরাটের বৈধ কাগজপত্র আছে কিনা জানতে চাইলে হঠাৎ উপস্থিত হন ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি নান্টু শেখ। তিনি সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়ে সরাসরি কাজে বাধা দেন এবং আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, “তার জায়গায় সে বালি ফ্যালাবে, এটা তার ব্যাপার। আপনারা দেখার কে? সরকারের অনুমতি আছে কি না দেখে গেছেন না? এখন ইউএনওর কাছে যেয়ে রিপোর্ট করেন। আপনারা পারলে নিউজ করেন, বাকিটা প্রশাসন দেখবে।”
তিনি জমির মালিককে বক্তব্য দিতে নিষেধ করেন এবং সাংবাদিকদের সাথে অপেশাদার আচরণ অব্যাহত রাখেন। এ সময় বিশ্বজিৎ মন্ডলের মামা ও ক্রারাইলকোপা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাম বৈরাগীও ওই নেতার সাথে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন।
তিনি অদ্ভুত যুক্তি দিয়ে বলেন, “আমার ভাগিনা বিয়ে করবে, ঘর উঠানোর জন্য পুকুর ভরাট করছি। আমার জমি আমি ভরাট করছি, অনুমতি নেব কেন?” তবে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পরে তিনি গোপনে কাউকে ফোনে ডিসি অফিস থেকে দ্রুত অনুমতির ব্যবস্থা করতে বলেন।
প্রকাশ্য দিবালোকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পরিবেশ আইন লঙ্ঘন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের লাঞ্ছিত করার এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, রাজনৈতিক নেতার এমন আচরণ স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্তরায় এবং আইনের শাসনের পরিপন্থী।
এলাকাবাসী দ্রুত এই অবৈধ পুকুর ভরাট বন্ধ এবং সাংবাদিকদের সাথে করা আচরণের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...