বিজ্ঞাপন
কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতার মদদে এই দখলদারিত্ব চলছে। তবে অভিযুক্তরা একে বৈধ লিজ নেওয়া জায়গায় নিয়মমাফিক কাজ বলে দাবি করেছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কলেজের পূর্ব পাশে বীর মুক্তিযোদ্ধা নওফেল গেট সংলগ্ন পুকুর পাড়ে ইতিমধ্যে চারটি ঝুপড়ি ও টিনশেড দোকান ঘর তোলা হয়েছে। বর্তমানে পুকুরের একটি নির্দিষ্ট অংশে মাটি ফেলে ভরাট কাজ চলছে। সেখানে আরসিসি পিলার বসানোর জন্য অন্তত পাঁচটি বড় গর্ত খোঁড়া হয়েছে, যা একটি স্থায়ী ভবন নির্মাণের স্পষ্ট প্রস্তুতি হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১১ ও ২০১২ সালে তৎকালীন পৌর মেয়র শেখ মাহতাব আলী মেথুর স্বাক্ষরে এই জায়গাটি শাহীন তালুকদার ও মেহেদী হাসান শামীম তালুকদার নামে দুই ভাইকে লিজ দেওয়া হয়। বর্তমানে এই নির্মাণকাজের তদারকি করছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত জেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান শামীম তালুকদার।
অভিযুক্ত শামীম তালুকদার তাঁর পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, “লিজ নেওয়া জায়গাটি ১২ বছর আগের। শাহীন তালুকদার একজন প্রতিবন্ধী ও আমার প্রতিবেশী, আমি তাদের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে ঘর তুলে দিচ্ছি। আমরা কলেজের কোনো জায়গা দখল করছি না, সবকিছু বৈধ কাগজপত্রের ভিত্তিতেই হচ্ছে।”
এ বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ এস এম আবদুল হালিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পৌরসভার লিজের সীমানা ছাড়িয়ে তারা কলেজের জায়গা দখল করে পাকা স্থাপনা তুলছে। আমি বর্তমানে ঈদের ছুটিতে গ্রামে থাকলেও বিষয়টি নিয়ে পৌর প্রশাসককে অবহিত করেছি। দখলকারীরা আমাকে ফোনে বলেছে—বিগত ১৭ বছরে তারা কিছু করতে পারেনি, এখন নাকি তাদের সুযোগ দিতে হবে। আমি শুনেছি এই দখলের নেপথ্যে স্থানীয় ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারাও জড়িত রয়েছেন।”
ফরিদপুর পৌর প্রশাসক (স্থানীয় সরকারের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক) মো. সোহরাব হোসেন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর নির্মাণকাজ আপাতত বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। লিজের কাগজপত্রগুলো নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ঈদের ছুটির পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...