Logo Logo

শোলাকিয়ায় ১৯৯তম ঈদ জামাতে জনসমুদ্র, বিশ্বশান্তি কামনায় দোয়া


Splash Image

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ১৯৯তম জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এ জামাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বিপুলসংখ্যক মুসল্লির উপস্থিতিতে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে রূপ নেয়।


বিজ্ঞাপন


আয়োজকদের তথ্য মতে, এবারের জামাতে প্রায় ৫ লাখেরও বেশি মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। ঈদের আগের দিন থেকেই কিশোরগঞ্জমুখী মানুষের ঢল নামে। দেশের ৬৪ জেলা ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা থেকে দলে দলে মুসল্লিরা শোলাকিয়ায় সমবেত হন। কেউ আত্মীয়-স্বজনের বাসায়, কেউ মসজিদে, আবার অনেকে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটান—একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায়ের প্রত্যাশায়।

সকাল গড়াতেই ঈদগাহ ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় আশপাশের সড়ক, ভবনের ছাদ এমনকি নরসুন্দা নদীর তীরেও কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

শোলাকিয়ার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য অনুযায়ী, জামাত শুরুর আগে শটগানের ফাঁকা গুলির মাধ্যমে মুসল্লিদের সতর্ক করা হয়। নির্ধারিত নিয়মে জামাত শুরুর ১০ মিনিট আগে ৫টি, ৫ মিনিট আগে ৩টি এবং ১ মিনিট আগে ২টি গুলি ছুড়ে সংকেত দেওয়া হয়।

এবারের জামাতে ইমামতি করেন বড় বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনের মুসলমানদের জন্যও দোয়া করা হয়।

ঈদ জামাত শেষে প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, দেশের ঐতিহ্যবাহী এ বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়া অত্যন্ত গর্বের বিষয়। তিনি নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করে জানান, শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের সংস্কার ও সম্প্রসারণে সরকারের পক্ষ থেকে প্রকল্প নেওয়ার বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, কঠোর নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে ঈদুল ফিতরের জামাত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, এখন প্রধান লক্ষ্য হলো মুসল্লিদের নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছানো নিশ্চিত করা। সার্বিকভাবে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই জামাত সম্পন্ন হয়েছে।

ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ সুপার ড. এসএম ফরহাদ হোসেন জানান, প্রায় ১১০০ পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), সেনাবাহিনী, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সাদা পোশাকে মাঠ পর্যায়ে অবস্থান নিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। প্রবেশ ও প্রস্থান পথগুলোতে ছিল কড়া নজরদারি এবং জনস্রোত নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয় বিশেষ ব্যবস্থা।

শোলাকিয়ার এই ঈদ জামাত কেবল একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়; এটি বাংলাদেশের ঐতিহ্য, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও বৃহৎ জনসমাবেশ ব্যবস্থাপনার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। প্রতিবছরের মতো এবারের আয়োজনও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়ে সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতাই বজায় রাখল।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...