Logo Logo

কানাইখালী নদীর বাঁধ ঘিরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত কৃষক, আহত অন্তত ২০জন


Splash Image

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় হাওরের পানি নিষ্কাশনকে কেন্দ্র করে কানাইখালী নদীর অবৈধ বাঁধ নিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামের পশ্চিমে কানাইখালী নদীর উত্তর তীরে শান্তিপুর ও জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কাশীপুর গ্রামের লোকজন মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।


বিজ্ঞাপন


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কানাইখালী নদী ফেনারবাঁক, ভীমখালী ও জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামের হাজার হাজার হেক্টর বোরো জমির পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ। কিন্তু শান্তিপুর গ্রামের পশ্চিম পাশে অবৈধভাবে একটি বাঁধ নির্মাণ করে পানি আটকে রাখা হয়। একইভাবে নদীর শাখা পাঠামারা খালেও হটামারা গ্রামের লোকজন আরেকটি বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ করে দেয়।

এই দুই বাঁধের কারণে উজান এলাকার বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। রাজাপুর, গঙ্গাধরপুর, ছয়হারা, উজান দৌলতপুর, ভাটি দৌলতপুর, কাশীপুর, কালাগোজা, লক্ষীপুরসহ বহু গ্রামের শত শত একর বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ক্ষুব্ধ কৃষকরা বারবার বাঁধ অপসারণের দাবি জানালেও তা কার্যকর না হওয়ায় এলাকায় উত্তেজনা দিন দিন বাড়ছিল।

শনিবার কাশীপুর গ্রামের কৃষকরা নিজেরাই বাঁধ কাটতে গেলে শান্তিপুর গ্রামের লোকজন বাধা দেয়। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়ে তা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষই মসজিদের মাইক ব্যবহার করে লোকজন জড়ো করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সংঘর্ষে শান্তিপুর গ্রামের মাসুদ মিয়া (৪১), আবু হানিফ (২৬), রাফাত (২০), সামিরুল ইসলাম (২৭), আবু সালেক (১৮), নুর মোহাম্মদ (৪০), কিসমত আলী (২৫), বাকি বিল্লাহ (২৬) ও সানুয়ার হোসেন (৪৩) আহত হন। গুরুতর আহত কয়েকজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অন্যদিকে কাশীপুর পক্ষের জসিম উদ্দিন (৩৫), আবুল হোসেন (৩০), আবু কালাম (২৫), সুজন মিয়া (২৬), রমজান আলী (২৫), হাজু মিয়া (৬২) ও রাব্বি মিয়া (১৬) আহত হন। এছাড়া আরও কয়েকজন স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, অবৈধ বাঁধের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে তাদের স্বপ্নের বোরো ফসল পানিতে ডুবে যাচ্ছে। দ্রুত বাঁধ অপসারণ না হলে তারা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।

অন্যদিকে শান্তিপুর ও হটামারা গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, বাঁধ না দিলে উজানের পানি নেমে এসে তাদের নিম্নাঞ্চলের জমি তলিয়ে দেবে। নিজেদের ফসল রক্ষার জন্য বাধ্য হয়েই তারা বাঁধ নির্মাণ করেছেন।

জামালগঞ্জ থানার পুলিশ জানিয়েছে, বাঁধ কাটা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছে, তবে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পূর্বে আলোচনার মাধ্যমে দুটি বাঁধ একসাথে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এক পক্ষের অনীহার কারণে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুত বাঁধ অপসারণ করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে জলাবদ্ধতার কারণে শুধু ফসলের ক্ষতিই নয়, এলাকায় আরও বড় সামাজিক অস্থিরতার সৃষ্টি হতে পারে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...