বিজ্ঞাপন
রোববার (২২ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে দুর্ঘটনাস্থল থেকে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রেনটি সরিয়ে নেওয়ার পর ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি ট্রেনের সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চট্টগ্রামগামী ‘মামুন স্পেশাল’ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর দ্রুতগতির ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রাথমিকভাবে ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও পরে তা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়ায়।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অজয় ভৌমিক জানান, এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ১২ জনের মরদেহ আনা হয়েছে। এর মধ্যে দুজনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, বাকিদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। আহতদের একই হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, এই দুর্ঘটনার পেছনে রেলগেটের সিগন্যালম্যানের চরম অবহেলাকে দায়ী করেছেন ট্রেনের যাত্রী ও স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, রেলক্রসিংয়ে যথাযথ সংকেত না থাকায় বাসটি লাইনে উঠে পড়ে। এছাড়া জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ একাধিকবার ফোন করা হলেও তাৎক্ষণিক সাড়া না পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মো. ইদ্রিস জানান, প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে সিগন্যাল ব্যবস্থা ও গেটম্যানের গাফিলতির কারণেই এই ভয়াবহ প্রাণহানি ঘটেছে। আজ সকালে রেলওয়ে ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে দুর্ঘটনাকবলিত স্থানটি পরিষ্কার করে রেল চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...