Logo Logo

গোপালগঞ্জে জ্বালানি সংকট, একাধিক পাম্প ঘুরেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত তেল


Splash Image

গোপালগঞ্জ জেলা শহরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেনসহ সব ধরনের জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ডিপো থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ার অভিযোগে পাম্পগুলোতে তেলের জন্য হাহাকার চলছে। এতে সাধারণ মানুষ, দূরপাল্লার পরিবহন চালক এবং বোরো চাষিরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।


বিজ্ঞাপন


মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সরেজমিনে শহরের পাথালিয়া এলাকার শরিফ নুরজাহান ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কোনো ধরনের জ্বালানি সরবরাহ নেই।

অন্যদিকে, দোলা ফিলিং স্টেশনে কেবল ডিজেল এবং নিগি ফিলিং স্টেশনে শুধুমাত্র পেট্রোল ও ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ নগণ্য হওয়ায় পাম্প কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে।

নিগি পেট্রোল পাম্পের পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, তিনি চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ তেল পাচ্ছেন। বর্তমানে যে পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে, তা দিয়ে অর্ধেক দিনও চলা সম্ভব নয়। তবুও সেবা সচল রাখতে ৩-৪ দিনের কোটা ভাগ করে তেল বিক্রি করছেন তিনি।

শরিফ নুরজাহান ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার বাচ্চু শেখ জানান, গত ১৭ মার্চ প্রাপ্ত ডিজেল ও অকটেন দিয়ে ২২ মার্চ পর্যন্ত কোনোমতে সেবা দিয়েছেন, এরপর থেকে ডিপো থেকে আর কোনো সরবরাহ মেলেনি।

জ্বালানি সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে কৃষি ও পরিবহন খাতে। চেচানিয়াকান্দি এলাকার কৃষক মহেন্দ্র বিশ্বাস উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "বোরো ধানের এই ভরা মৌসুমে সেচ কাজের জন্য প্রতিদিন ব্লকে অন্তত ৫০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন। কিন্তু পাম্পে ঘুরেও তেল পাচ্ছি না। এতে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছি।"

পরিবহন চালকদের অবস্থাও শোচনীয়। বাস চালক রহমান মোল্লা জানান, খুলনা থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে তিনটি পাম্প ঘুরে ১০০ লিটার চাহিদার বিপরীতে মাত্র ৫৫ লিটার ডিজেল সংগ্রহ করতে পেরেছেন।

ট্রাক চালক খান আনিসুর রহমান বলেন, "তেল সংকটে পথেই ২-৩ দিন কেটে যাচ্ছে। এতে পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়ছে এবং মালিকদের ড্যামারেজ দিতে হচ্ছে।" সাধারণ বাইক চালকরাও অভিযোগ করছেন, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ১০০ টাকার তেল মিলছে, যা দিয়ে যাতায়াত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

ডিপো কর্তৃপক্ষের রহস্যময় নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তেলবাহী গাড়ির চালকরা। চালক মোহাম্মদ রাহাত বিশ্বাস অভিযোগ করেন, এক সপ্তাহ ধরে ডিপোতে গিয়েও তেল মিলছে না; বরং অফিস তালাবদ্ধ রাখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ফোন ধরছেন না। ঈদ ফেরত যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এবং কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মহল।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...