বিজ্ঞাপন
জেলা জুড়ে মোট ১২টি পেট্রোল পাম্প থাকলেও মাগুরা পৌরসভার ভেতরে থাকা ৭টি পাম্প ঘুরে সোমবার (30 মার্চ) সকালে দেখা গেছে, কোনো স্টেশনেই পেট্রোল বা ডিজেল মিলছে না।
এদিকে তেল সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। মাগুরা জেলায় চলতি মৌসুমে ৩৯ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এসব জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য ২৭ হাজার ৪৯৯টি ডিজেলচালিত সেচযন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু ডিজেল না পাওয়ায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং কৃষকরা ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন। পাশাপাশি পাট ও তিলের বীজ বপনেও বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন পাম্পে শত শত মোটরসাইকেল ও যানবাহন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে জেলার পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।
মাগুরার ভিটাসাইর এলাকার বড় ফিলিং স্টেশন ‘মেসার্স মা ফাতেমা ফিলিং স্টেশন’-সহ অধিকাংশ পাম্প বন্ধ রয়েছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, ডিপো থেকে গত কয়েক দিন ধরে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ আসছে না। ট্যাংক-লরিগুলো ডিপোতে অপেক্ষায় থাকলেও কবে সরবরাহ মিলবে, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।
পাম্প মালিকরা জানান, দুই-তিন দিন পরপর অল্প পরিমাণে জ্বালানি সরবরাহ পাওয়া গেলেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। তেল এলেই যানবাহনের চালকরা ভিড় জমাচ্ছেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই মজুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, টানা দুদিন তেল না পেয়ে তারা যানবাহন চালাতে পারছেন না। সরকারি ঘোষণার সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল নেই বলেও অভিযোগ করেন তারা। অনেকেই বাধ্য হয়ে মোটরসাইকেল ঠেলে পাম্পে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
সদর উপজেলার হাসান নামের একজন বলেন, “তেল না পেয়ে হেঁটে পাম্পে এসেছি। কোথাও তেল নেই, এখন বেশি দামে খোলাবাজার থেকে কিনতে হবে।”
এদিকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় খোলাবাজারে বেশি দামে পেট্রোল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। মহম্মদপুর উপজেলার কানুটিয়া গ্রামের বাদশা আলী ও শালিখা উপজেলার আড়পাড়া এলাকার আহমেদ জানান, তারা বাধ্য হয়ে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা লিটার দরে পেট্রোল কিনেছেন।
বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জানান, দৈনিক চাহিদার তুলনায় অনেক কম জ্বালানি বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে জেলা প্রশাসন কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে বিভিন্ন পাম্পে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলেও সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।
পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে কিছু পাম্পে সীমিত পরিমাণে তেল দেওয়া হচ্ছে। একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার পেট্রোল ও ডিজেল দেওয়া হচ্ছে। তবুও দীর্ঘ লাইন ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...